পুজোর মধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা চোরবাগানে! বিপর্যয়ের পর তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল নবান্ন। ইতিমধ্য়েই পুজো কমিটির সম্পাদক, সহ-সম্পাদক সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর এবার পুজোর ভিড় সামলাতে ৭ আইপিএসকে ফেরাল নবান্ন। তালিকায় রয়েছেন মুরলীধর শর্মা, রূপেশ কুমারও। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন প্রিয়ব্রত রায়, দীপক সরকার, মিরাজ খালিদ, সৌম্য রায় ও তরুণ হালদার।
চোরবাগানে বিপর্যয়ের পড়েই তড়িঘড়ি ভবানী ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্ত উদ্যোক্তা-সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিট গঠন করে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরই মধ্যে রাজ্য পুলিশের অন্য শাখায় কর্মরত আইপিএস অফিসারদের ফেরানো হল পুজোর দায়িত্ব। জানা গিয়েছে, এই ৭ আইপিএস অফিসারের পুজোর ভিড় সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাঁদের পুজোর দায়িত্বে আনা হয়েছে। চোরবাগানের মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে আর তৈরি না হয় সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত।
জানা গিয়েছে, মুরলীধর শর্মা দুর্নীতি দমন শাখায় ছিলেন। রূপেশ কুমারকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ থেকে পুজোর দায়িত্বে আনা হল। রাজ্য ট্রাফিক পুলিশের আইজি পদে ছিলেন মিরাজ খালিদ। এই শাখারই এসপি পদে ছিলেন প্রিয়ব্রত রায়। অন্যদিকে তরুণ হালদার ও দীপক সরকারকে সিআইডি থেকে পুজোর কাজে ফেরাল নবান্ন। সৌম্য রায় ছিলেন আইজির স্পেশাল সুপার পদে। এই ৭ জনেরই কলকাতায় পুজোর দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
উল্লেখ্য মহাসপ্তমীর রাতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজোয় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় মোট ১৯ জনের। আহত বহু। অনেকে এই দুর্ঘটনার জন্য পুজোর আয়োজকদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। অনেকে আঙুল তুলেছে পুলিশ প্রশাসনের উপর। অভিযোগ, ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। সরু গলিতে প্রচুর ভিড় একসঙ্গে ঢুকে যায়। এর মধ্যেই শুরু হয় বৃষ্টি। সেই সময় মণ্ডপের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন। আবার অন্যদিকে বৃষ্টির জন্য এক্সিট পয়েন্ট থেকে অনেকে বাইরে বেরতে চাইছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ভিড়ের চাপে ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ। ঘটনাস্থলেই অনেকের মৃত্যু হয় বলে অনুমান। এই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। আহত বহু।
