শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবারের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করতে পারে। যদি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একইভাবে ছেলেমেয়েদের মূল্যবোধে দীক্ষিত করতে সহায়তা করে তাহলে ছেলেমেয়েদের যথাযথ মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু পরিবার যদি মূল্যবোধহীনতার আখড়া হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জোরালো প্রচেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট ছেলেমেয়েরা কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে ধারণা করা যেতে পারে যে, পরিবারের প্রভাব সাধারণত বেশি থাকবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি মূল্যবোধের ধার না ধারে এবং শুধু পুথিগত শিক্ষাদান করে, তাহলে পরিবারে এবং সমাজে আশপাশে যা ঘটছে তা থেকে ছেলেমেয়েরা মূলত মূল্যবোধ বা মূল্যবোধহীনতা ধারণ করবে।...
সামাজিক অবক্ষয়ের মূলে রয়েছে মূল্যবোধের সংকট। মূল্যবোধকে ব্যাপক অর্থে দেখতে হবে, যাতে নিহিত গুণগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করা যেতে পারে: সততা ও সত্যনিষ্ঠা, ন্যায়বোধ ও নৈতিক দৃঢ়তা, মানবিকতা, সহমর্মিতা, মানবমর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যনিষ্ঠা, পরমতসহিষ্ণুতা, অসাম্প্রদায়িকতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, আইন ও বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা, ন্যায়বিচার, পরার্থপরতা এবং আত্মসংযম অর্থাৎ লোভ-লালসা পরিহার করা ও বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা।
এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ মূল্যবোধের একটি অবিচ্ছেদ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। কেননা পরিবেশের অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন, মরুকরণ এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ইতোমধ্যেই মানবজাতির জন্য মহাসংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই মূল্যবোধগুলোর অনুসরণ বা লঙ্ঘন উভয়ই ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সেমতে প্রতিফলিত হয়। যা নির্ধারণ করে দেশের সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা। দেশের নাগরিকরা কেমনভাবে জীবনযাপন করছেন বা করতে পারছেন, তার ভিত্তিতে বিরাজমান বাস্তবতার মূল্যবোধভিত্তিক মূল্যায়ন করা যেতে পারে। নাগরিক মানে সব নাগরিক–কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ, যদি ন্যায়বিচারের কথা বলি, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হতে হবে।
মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য মূল্যবোধগুলো যেমন ব্যক্তিপর্যায়ে বিদ্যমান থাকতে হবে, তেমনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেগুলোর প্রতিফলন থাকতে হবে। আর ব্যক্তিপর্যায়ে সার্বিকভাবে মূল্যবোধ বিদ্যমান থাকলে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এগুলো প্রতিফলিত হবে ধরে নেওয়া যায়।
ব্যক্তিপর্যায়ে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে পরিবারই প্রথম সোপান। মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকেই সাধারণত চলন, বলন ও করণীয় এবং অন্যদের প্রতি আচরণ সম্বন্ধে ছেলেমেয়েদের হাতেখড়ি হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে পরিবারের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, যা তাদের চরিত্র গঠনে সহায়তা করতে পারে। যদি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একইভাবে ছেলেমেয়েদের মূল্যবোধে দীক্ষিত করতে সহায়তা করে তাহলে ছেলেমেয়েদের যথাযথ মূল্যবোধসম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু পরিবার যদি মূল্যবোধহীনতার আখড়া হয়, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জোরালো প্রচেষ্টা করলেও সংশ্লিষ্ট ছেলেমেয়েরা কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে ধারণা করা যেতে পারে যে, পরিবারের প্রভাব সাধারণত বেশি থাকবে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি মূল্যবোধের ধার না ধারে এবং শুধু পুথিগত শিক্ষাদান করে, তাহলে পরিবারে এবং সমাজে আশপাশে যা ঘটছে তা থেকে ছেলেমেয়েরা মূলত মূল্যবোধ বা মূল্যবোধহীনতা ধারণ করবে। অল্প বয়সে আচরণশিক্ষা অনেক সময় স্থায়ী হয়, যদিও পরবর্তীতে পারিপার্শ্বিকতার প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মূল্যবোধের প্রতিফলনে ব্যক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, রাজনৈতিক আচার-আচরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ওপরে উল্লিখিত বিভিন্ন মূল্যবোধের গুরুত্ব সম্বন্ধে বাংলাদেশে অনেক বক্তৃতা-বক্তব্য শোনা যায়। যারা এসব উচ্চারণ করেন তাদের মধ্যে রয়েছেন পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ, লেখক, ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের অনেকে বাস্তবে মূল্যবোধের কোনো ধার ধারেন না। কৌশলগত কারণেই এরকম কথা বলে থাকেন।
বিরাজমান বাস্তবতা সম্বন্ধে বলতে গেলে প্রথমেই উল্লেখ করা যায়, Transparency International-এর ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে বাংলাদেশ হচ্ছে ১৩তম সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এই একটি তথ্যই দেশের সার্বিক সামাজিক অবক্ষয়ের এক শোচনীয় চিত্র তুলে ধরে।
দুর্নীতি দেশের সর্বত্র বিরাজমান। অনেকের জন্য, ছোট-বড় যে পর্যায়েরই হোক, ক্ষমতার চেয়ারই (হোক রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, ব্যবসায়িক বা অন্য) যেন দুর্নীতির অব্যর্থ হাতিয়ার। অনেক সময় দুর্নীতি যোগসাজশের মাধ্যমে ঘটে। বাংলাদেশে এই যোগসাজশ সিন্ডিকেট নামে পরিচিত। যোগসাজশ হয় ক্ষমতার চেয়ারে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি ও সেবা গ্রহণকারীর মধ্যে, যেখানে উভয়ই উৎকোচ পায় আর সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার সেরকমটি ঘটে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও। এ ধরনের যোগসাজশ দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত; যেমন আছে আলু বা পেঁয়াজের বাজারে, তেমনই আছে ব্যাংক, বিভিন্ন সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং নাগরিক সমাজ সংস্থায়। আছে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও।
একটি ব্যক্তিগত উদাহরণ। একসময় একটি সরকারি অফিস থেকে আমার একটি বিষয়ে অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। আবেদন করা হয়। আমার সঙ্গে কাজ করে এমন একজনের ফোন নম্বর জোগাড় করে তাকে বলা হলো, কিছু সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র লাগবে এবং সেগুলো আমার বাসার গেটে রেখে দিলে সেখান থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। এক শুক্রবারে একজন গেটে এসে জানতে চান, আমি বাসায় আছি কি না। আমি ছিলাম। আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আমি রাজি হই। পরবর্তী সময়ে যার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল, তাকে জানানো হলো যে, আমার সঙ্গে কথা বলে ভালো লেগেছে। তাই, যদিও তারা ওই কাজের জন্য দেড় লাখ টাকা নেন, আমার জন্য তা ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বলা হলো, ঊর্ধ্বতন কাউকে বলে কোনো লাভ হবে না, কারণ সবার অংশীদারত্ব রয়েছে। বলা বাহুল্য, আমি ওই পথে যাইনি।
বাংলাদেশে চাটুকারদের এক বিশাল উপস্থিতি বিদ্যমান। তারা ক্ষমতাবানদের চারপাশে ঘোরাফেরা করে এবং তাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ থাকে। মূলত তারা কোনো মূল্যবোধের ধার ধারে না বরং চাটুকারিতার মাধ্যমে ক্ষমতাবানদের নজরে থাকতে চায় আনুকূল্য বা পদপদবি বাগানোর লক্ষ্যে এবং সাধারণত সফল হয়। অপরদিকে, যাদের তোষামোদ করা হয়, তাদের অনেকে তোষামোদ দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে সঠিক কাজটি করতে অনেক সময় ব্যর্থ হন।
উল্লিখিত মূল্যবোধসমূহ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং প্রত্যেক নাগরিকের সব মানবাধিকার ভোগ করা এবং মানবমর্যাদার সঙ্গে বসবাস করার কথা। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শও এরকম সমাজ সৃষ্টির তাগিদ দেয়। কিন্তু বাস্তবে দেশে আর্থ-সামাজিক বৈষম্য প্রকট এবং ক্রমবর্ধমান।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আয় বৈষম্য পরিমাপক গিনি সূচক বাড়তে বাড়তে ২০২৫ সালে ০.৫৩-এ পৌঁছেছে। এই সূচক ০.৫০ মানে বৈষম্য অতীব প্রকট। সুতরাং, বর্তমানে দেশে চরম আয়বৈষম্য বিরাজমান এবং আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে (মৌলিক চাহিদা-খরচের ভিত্তিতে) ২২.৯ শতাংশ মানুষ ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ আরও অসংখ্য মানুষ দারিদ্র্যসীমা পরিমাপক আয় থেকে অতি সামান্য বেশি আয় করেন। এসব পরিবারের আর্থিক অবস্থা অতি ভঙ্গুর। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা পরিবারে অসুস্থতা অথবা মূল বা একক উপার্জনকারী ব্যক্তির মৃত্যুতে তারা সহসাই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। দরিদ্র এবং এসব আর্থিক ভঙ্গুরতার শিকার পরিবারগুলো দেশের ৬০ শতাংশ বা ততধিক মানুষ ধারণ করে।
এখানে অপর একটি তথ্য উল্লেখ করা প্রয়োজন। দেশে বেকারত্ব প্রকট; প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এবং বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষিত-নির্বিশেষে ব্যাপক মানুষ বেকারত্ব বা অর্ধবেকারত্বের শিকার। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে ভুক্তভোগী। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা প্রায় ৩২ মিলিয়ন, যাদের প্রায় ৪১ শতাংশ বা ১৩ মিলিয়ন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা কাজে নিয়োজিত নয়। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে এরা হতাশায় ভোগে এবং অনেকেই নানা ধরনের অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এদের ক্ষেত্রে মূল্যবোধের বিস্তর অবক্ষয় ঘটছে এবং তারা এই পথে ধাবিত হয়েছে সার্বিকভাবে সমাজে বিভিন্ন মূল্যবোধের ব্যাপক অবক্ষয়ের কারণে।
এবার আসি শিক্ষার কথায়। মানসম্পন্ন শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষের সক্ষমতা বাড়ে এবং মানুষের মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে সর্বস্তরে শিক্ষার মান খুবই নিম্ন পর্যায়ের। কাজেই দেশে দক্ষতা সৃষ্টি হচ্ছে চাহিদার তুলনায় স্বল্পই। তদুপরি, মেধাবীদের মধ্যে বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত প্রবল।
মূল্যবোধ সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থায় তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না; বরং নানা অসংগত চাপের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মূল্যবোধের অবক্ষয়কে উৎসাহিত করছে। অপরদিকে, সম্পদশালী ও ক্ষমতাবানদের মধ্যে অনেকের আরও সম্পদ এবং আরও ক্ষমতার লিপ্সার কারণে তারা সব ধরনের মূল্যবোধকে প্রয়োজনে নির্বাসনে পাঠিয়ে অভীষ্ট হাসিল করতে ব্যস্ত। পিছিয়ে পড়ারা থেকে যাচ্ছেন যে তিমিরে ছিলেন, সেই তিমিরেই। তাদের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান।
আসলে সার্বিক বিবেচনায়, সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত। একটি ক্ষুদ্র ক্ষমতাধর শ্রেণি (রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষাকারী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য) এবং অপরটি দেশের সাধারণ মানুষের বৃহৎ গোষ্ঠী। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি, বস্তুত সেই পথ রচনার কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি বাস্তব ক্ষেত্রে, যদিও সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলস কাজ করবেন বলে বক্তৃতা দিয়েছেন ও অঙ্গীকার করেছেন বহুবার বিভিন্ন নেতা-নেত্রী।
এ দেশে ক্ষমতাধরদের অনেকে নিজেদের ‘বেশি মানুষ’ মনে করেন এবং পিছিয়ে থাকাদের ‘কম মানুষ’ মনে করেন এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করেন। যারা এ ধরনের মানসিকতায় আক্রান্ত, তারা সার্বিক মূল্যবোধ বিবেচনায় তলানির বাসিন্দা এবং দেশে ব্যাপক সামাজিক অবক্ষয়ের হোতাদের অন্যতম। আবার সাধারণ্যে এমন ধারণা বিরাজমান দেখা যায় যে, একজন ব্যক্তির অর্থ-সম্পদ থাকলেই সেই ব্যক্তি বড়লোক। প্রশ্ন করা হয় না তিনি কীভাবে বিত্তশালী হলেন। ফলে ধান্দাবাজি, অসৎ পথ ও দখলদারির মাধ্যমে বিত্তশালী অসংখ্য মানুষ সমাজে সম্মাননীয়, ঘৃণ্য নয়।
সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু বক্তৃতা ও উপদেশ মারফত সম্ভব নয়। বরং এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে যথাযথ রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও দায়বদ্ধতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে মূল্যবোধ বিকশিত হতে পারে। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা কে বাঁধবে? এ কাজ সচেতন সবার, বিশেষ করে সচেতন রাজনীতিকদের।
সর্বশেষে বলতে চাই, স্বাধীনতা অর্জনের পঞ্চান্ন বছরেও দেশে মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ সৃষ্টি হয়নি বরং সামাজিক অবক্ষয় সর্বব্যাপী বিদ্যমান এবং ক্রমবর্ধমান; তাই বলে এ দেশে কখনো মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠিত হবে না তা বলা যাবে না। তবে কখন হতে পারে তা বর্তমান পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় নিয়ে বলা কঠিন।
লেখক: অর্থনীতিবিদ ও সমাজচিন্তক
