শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে ময়নাগুড়ির আনন্দনগর বিবেকানন্দ ক্লাবের পুজোরEi Samay
Published on
:
1 min read
বাসুদেব ভট্টাচার্য, ময়নাগুড়ি
'মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী'। এ বার এই ভাবনাকে সামনে রেখে ৫৫তম বর্ষে চমক দিতে চলেছে ময়নাগুড়ির আনন্দনগর বিবেকানন্দ ক্লাব। প্রাচীন প্রস্তর যুগের মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ, যা দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী উদ্যোক্তারা।
ময়নাগুড়ির শিল্পী পার্থ দেবগুপ্তর হাতের ছোঁয়ায় বিভিন্ন কারুকার্যে সেজে উঠছে মণ্ডপ। বাঁশ, কাঠ, প্লাইউড, ফাইবার ও সোয়েড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশ। সোয়েড দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপের দেওয়াল। ফাইবার কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, যা গোটা মণ্ডপজুড়ে সাজানো থাকবে। পাহাড়ের নীচে পাথর কেটে প্রাচীন কালে যেভাবে মন্দির তৈরি করা হতো, সেই নির্মাণশৈলীকেই তুলে ধরা হচ্ছে। মৃৎশিল্পী হরি রায়ের হাতের ছোঁয়ায় পাথর কেটে তৈরি মূর্তির আদলে গড়ে উঠছে দুর্গাপ্রতিমাও।
ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্তী বলেন, 'প্রতিবছর আমাদের পুজোয় নতুন ভাবনা থাকে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মায়ের মৃন্ময়ী রূপ থেকে চিন্ময়ী হয়ে ওঠার দৃশ্য তুলে ধরা হবে। সকলের সন্তান যাতে দুধে-ভাতে থাকে, সেই প্রার্থনাও করা হবে।'
মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি থাকছে আলোর চমক। তৈরি করা হচ্ছে বেশ কয়েকটি গেট, যেখানে আলোর ক্যানভাসে ফুটে উঠবে বিভিন্ন চিত্র। পুজোর সঙ্গে সামাজিক উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ক্লাব। কমিটির আর এক যুগ্ম সম্পাদক সুদীপ বিশ্বাস বলেন, 'ষষ্ঠীতে ১১ জন ভিক্ষাজীবীর হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করা হবে। পুজোর কয়েকটি দিন যাতে ভিক্ষাবৃত্তি না করে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে তাঁদের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হবে।'
অষ্টমীতে সকলে পাবেন খিচুড়ি ভোগ। ওই দিনই দুঃস্থদের বস্ত্রদান করা হয় ক্লাবের পক্ষ থেকে। প্রতি বছর সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার বিচারে পুরস্কৃত হয় এই পুজো। এ বারও উল্লেখযোগ্য স্থান করে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আনন্দনগর বিবেকানন্দ ক্লাবের সদস্যরা।