ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও কোস্টগার্ডকে প্রশিক্ষণ এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছে দেশটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে এই তিন দাবির কথা জানান ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আলজুবা। তবে ব্রিফিংয়ে সরাসরি সামরিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
আলজুবা বলেন, ইয়েমেনকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাও জরুরি। পাশাপাশি হুথিদের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের আহ্বান জানান তিনি।
হুথিদের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছি না।’
তবে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো ইয়েমেন সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আপাতত হুথিদের নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটাতে সামরিক অভিযানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
চলমান অভিযানে ইয়েমেনের নিজস্ব নেতৃত্বের বিষয়টিও স্পষ্ট করেন আলজুবা। তিনি বলেন, জোটের অংশীদারদের বিমান সহায়তা থাকলেও অভিযানের সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্ব ইয়েমেনের হাতেই রয়েছে। তার কথায়, ‘সিদ্ধান্ত ইয়েমেনের, নেতৃত্ব ইয়েমেনের, সেনারাও ইয়েমেনের।’
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী সমর্থক সৌদি আরব। এ কারণে হুথিরা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
দুই পক্ষের মধ্যে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি চলতি গ্রীষ্মে ভেঙে পড়ে। এদিকে, গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুথিদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের কথা জানিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে আলজুবা বলেন, ওই যোগাযোগে মূলত হুথিদের আরও হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এসব যোগাযোগ কখন এবং কোন মাধ্যমে হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।