দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ছয় জেলেকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ফাঁড়ি ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন ভোলার লালমোহন উপজেলার চরকচপিয়া গ্রামের আনিচুল হকের ছেলে মো. মহসিন, মৃত মানিক হাওলাদারের ছেলে মো. রুবেল, নাসির পল্লানের ছেলে মো. শাকিল পল্লান, হাফেজ হাওলাদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন এবং দশমিনা উপজেলার বড়গোপালদী ইউনিয়নের চরঘূর্ণী গ্রামের সলেমান মোল্লার ছেলে মো. মাসুম মোল্লা ও জলিল হাওলাদারের ছেলে আলাউদ্দিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ। এ সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার অভিযোগে ছয় জেলেকে আটক করা হয় এবং মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার জব্দ করা হয়।
পরে আটক জেলেদের সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
দশমিনা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় ছয় জেলেকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়জুড়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটক ছয় জেলেকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
