নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যা মামলার আসামি সাজিবুল ইসলাম (২৮) ওরফে অপূর্বকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম। তিনি জানান, গতকাল রোববার দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত ২৪ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজ সোমবার দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সাংবাদিক হত্যা মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের তেলুঞ্জিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ি এলাকার একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে সাংবাদিক আলিফ ফকির নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী অনিন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে পৌর শহরের মধ্যবাজারের সিনেমা হল এলাকা থেকে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়। অপূর্ব দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমশের আলীর ছেলে।
২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি দুর্গাপুরে ছুটিতে বাড়িতে আসা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলায় ১৩ জানুয়ারি অপুর্বকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে বেরিয়ে যায়। একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে হত্যার পর এবার একজন সাংবাদিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অপুর্বের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় জনমনে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির আইপিটিভি ‘রূপসী বাংলার’ নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। এই পেজের মাধ্যমেই এলাকার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি ও ভিডিও প্রকাশ করতেন, যা তাকে খুব দ্রুতই অপরাধীদের চক্ষুশূলে পরিণত করেছিল।
আলিফের পৈতৃক নিবাস কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামে হলেও তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আজ তাকিয়ে আছে এ তদন্তের দিকে। যে মানুষটি কলম হাতে সমাজের অন্ধকার দূর করতে চেয়েছিলেন, তার নির্মম পরিণতির সুষ্ঠু বিচার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। সত্য বেরিয়ে আসবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দুর্গাপুরবাসী।