আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক ::
সুনামগঞ্জের ছাতকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবেন নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ এবং ডেটাবেজ তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ছাতক উপজেলায় ইতিমধ্যে ১২৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে মনোনীত উপজেলাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে ভার্চ্যুয়াল অবহিতকরণ ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
দেশের মোট ৭৯১টি স্থানে একযোগে এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছাতক উপজেলা প্রশাসনও ভার্চ্যুয়ালি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। ছাতক উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে যুক্ত হন।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী আমির হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ছাত্রদল নেতা নিজাম উদ্দিন, ছাতকের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।
অনুষ্ঠানে সরকারের নির্দেশনা, তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান। তিনি জানান, ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিবারের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজ প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ছাতক উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১২৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১৩ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে নোয়ারাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ কাজে সার্বিক তদারকি করবেন নিয়োজিত সুপারভাইজাররা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান ও যোগ্য পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপযুক্ত পরিবারকে মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক অনুদান সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতিতে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তবে সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের যোগ্যতা নির্ধারণ এবং তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য তথ্য সংগ্রহের সময় সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করতে হবে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহ মো. শফিউর রহমান তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এদিকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও তথ্য সংগ্রহকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কার্ড করে দেওয়ার নামে কিংবা তথ্য সংগ্রহের কথা বলে কোনো ব্যক্তি টাকা দাবি করলে তা প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহি উদ্দিন এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে কাউকে কোনো টাকা দেওয়া যাবে না। কেউ টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। এতে অনিয়ম ও প্রতারণা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, যথাযথ যাচাই-বাছাই, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ করে প্রকৃত যোগ্য পরিবারগুলো যেন এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে, সে জন্য তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে পরবর্তী সব ধাপে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
ছাতকে মঙ্গলবার নোয়ারাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসন, তথ্য সংগ্রহকারী, সুপারভাইজার ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
নিউজটি শেয়ার করুনঃ
