দেয়ালে সাজানো আগ্নেয়াস্ত্র। মেঝেতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন অস্ত্র। প্রকাশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া হতো এসব অস্ত্র তৈরির ভিডিও। চলতো বিক্রির বিজ্ঞাপনও।
এরপর শুরু হতো ক্রেতার খোঁজ। বন্দুক নামে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে চলতো তথ্য আদান-প্রদান। আর বেচাকেনার দরদামের যাবতীয় তথ্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এসব সূত্র ধরেই লালমাইয়ে অভিযান চালায় এসআরবি-কুমিল্লা। অস্ত্র তৈরি বিভিন্ন সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ইসাপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয় মূলহোতা আবু মোহাম্মদ তৌকির নেওয়াজ আসিফকে।
অভিযানে এসআরবি-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে বোঝা গেছে, অস্ত্রের প্রতি ওই ব্যক্তির একধরনের আকর্ষণ রয়েছে। এ কারণে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে অস্ত্র কেনার বিষয়ে কথাবার্তা বলতেন।
এসআরবির অনুসন্ধানে উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে অস্ত্র তৈরির সব তথ্য। এরপর এসব অস্ত্র কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন চক্রের কাছে পৌঁছে যেত। এ ঘটনা সামনে আসার পর উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লালমাই ইছাপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় আমাদের গ্রামেরও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি মনে করি, অন্যরা যেন এ ঘটনা দেখে সচেতন হন এবং কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে মানুষ মুক্তি পায়।
আটক আসিফের সঙ্গে অন্যকোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অভিযান অব্যাহত রাখায় ঘোষণা দিয়েছে এসআরবি।
