বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) বাণিজ্যিক চ্যানেলের আদলে পরিচালনা না করে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ গণমাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
একই সাথে গত ১৭ বছরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দফতর ও সংস্থায় অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম-পদবিসহ তালিকা চাওয়া হয়েছে। ওই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিটিভির সংবাদ ও অনুষ্ঠান পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেয়া, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সংবাদ পরিবেশনে প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ গণমাধ্যম হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এ জন্য বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের অংশ হিসেবে এসব গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও ইতিহাস প্রামাণ্য দলিলে স্থান দেয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এ-সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মো: আশরাফ উদ্দিন, মো: মজিবুর রহমান, নিলুফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো: শফিকুল ইসলাম এবং মোসা: নাজমুন নাহার অংশ নেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদফতরের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
