অনলাইন ডেস্ক
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে, ফলে গ্রাহকদের এখন থেকে বাড়তি দামে তেল কিনতে হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গতকাল রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৩৫ টাকা। এতে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামই দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নতুন দরে ডিজেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমে এলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থির।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতিও চাপের মুখে পড়েছে। বাজারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের ফিলিং স্টেশনে ভিড় দেখা গেছে। এই অবস্থায় সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধজনিত শঙ্কায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনছেন, যা বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দেশে ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজেল, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। সাম্প্রতিক সময়ে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় মজুত কমে গেলেও নতুন চালান আসায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে অকটেন ও পেট্রলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকারীদের কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরবরাহ বাড়ালেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না। মানুষের মধ্যে জ্বালানি ঘাটতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটি দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু রয়েছে। প্রতি মাসে আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়।
