রাস্তায় ও ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালেই এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের ও মালামাল ক্রোক করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘অনুরোধের পালা শেষ। এখন থেকে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
আবদুস সালাম বলেন, ‘রাস্তায় যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকান অনেকাংশে দায়ী। ঢাকাবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। মানবিকতার দোহাই দিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত দখলের সুযোগ নেই। নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আগামী সপ্তাহেই সেখানে আবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক র্যালি ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকবে।’
মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসক জানান, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এসটিএসটি স্থানান্তর করে সেখানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন আরেকটি এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রশাসক বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ ও অবৈধ দোকান উচ্ছেদের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়।
