পুজো শেষ হওয়ার পরেও মণ্ডপ খোলার কাজে হাত দিতে পারছেন না চুঁচুড়ার এই পুজো কমিটির সদস্যরা। কারণ? মণ্ডপের ছাদে একটি ঘুঘু পাখি বাসা বেঁধেছে। সেই বাসায় রয়েছে ৪টি ডিম। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোনো পর্যন্ত বা তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্যান্ডেল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। পুজো কমিটির সদস্যদের মানবিকতার প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এবার ৫৩ বছরে পা দিয়েছে চুঁচুড়ার কান্তনগরের সুকান্ত স্মৃতি সঙ্ঘের দুর্গাপুজো। এবছর তাঁদের ছিল ভাবনা সাঁচি স্তূপ। পুজোর প্রায় ১৫ দিন আগেই বাঁশের কাঠামোয় বাসা বাঁধতে শুরু করে একটি ঘুঘু পাখি। ত্রিপল টাঙানোর সময় পুজোর উদ্যোক্তাদের চোখে পড়ে বিষয়টি। তাই তাঁরা সেই সময় বাসার উপরে ত্রিপলের বদলে একটি পাতলা কাপড় টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই কাটে পুজো। পুজো শেষ হলেও ঘুঘু পাঠির বাসা প্যান্ডেলের সিলিংয়েই রয়ে গেছে। সেখানে ডিম আগলে বসে আছে পাখিটি। তাই পুজো মিটলেও মণ্ডল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন পুজো কমিটির সদস্যরা।
ক্লাবের এক সদস্য মনোজ মণ্ডল জানান, মণ্ডপের সব সদস্যরা মিলে মণ্ডপের কাজ করেছে। পুজোর তিন মাস আগে থেকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। মণ্ডপের উপরে ত্রিপল বাঁধার সময়েই বিষয়টি পুজো উদ্যোক্তাদের নজরে আসে। তাই সিলিংয়ে ত্রিপল না লাগিয়েই মণ্ডপের কাজ শেষ হয়। ক্লাবের তরফে আগেই সিদ্ধান্ত হয়, ঘুঘুর বাসার ডিম ফুটে বাচ্চা না বেরনো পর্যন্ত বা তাদের সুরক্ষিত জায়গায় না সরানো পর্যন্ত প্যান্ডেল খোলা হবে না। মনোজের কথায়, “এটা আমাদের কর্তব্য। পশুপাখিদেরও বাঁচার অধিকার আছে। আমরা মানুষ হয়ে তাদের বাঁচিয়ে রাখা আমাদের দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য বলে মনে করি।”
যদিও মণ্ডপের রাস্তার দিকের অংশ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। রবিবার লক্ষ্মীপুজো। লক্ষ্মীপুজোর পরেই মণ্ডপের একাংশ খুলে দেওয়া হবে। ডিম ফুটে পাখিগুলি ওড়ার মতো না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন ক্লাবের সদস্যরা।
