চলতি মৌসুমে গোলখরায় ভুগছিলেন, শুনতে হচ্ছিল সমালোচনাও। অবশেষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে সব সমালোচনার জবাব দিলেন ব্র্যাডলি বারকোলা। বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগে অস্ট্রিয়ার ক্লাব লাস্ককে ৬-৩ গোলে হারিয়েছে লিভারপুল। ম্যাচে তিন গোল করে দলের বড় জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড।
গত আগস্টে পিএসজি থেকে ১২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ডের বিশাল অঙ্কে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর নিজের সামর্থ্যের প্রতি সুবিচার করতে পারছিলেন না বারকোলা। একের পর এক নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। তবে লিভারপুলের হয়ে নিজের সপ্তম ম্যাচে এসে অবশেষে গোলের দেখা পেলেন এই ফরাসি তারকা।
রাইফাইসেন অ্যারেনায় ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুটি গোল করেন বারকোলা। এর আগে লিভারপুলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন রোনালদ আরাউহো। ক্লাবটির হয়ে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।
বিরতির পর লিভারপুলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন জেরেমি ফ্রিমপং। এরপর নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বারকোলা। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে লুইস কোমাসের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই ছিল কোমাসের প্রথম গোল।
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা ছন্দ হারায় লিভারপুল। ৭৪ ও ৭৭ মিনিটে পরপর দুটি গোল করে ব্যবধান কমায় লাস্ক। তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইংলিশ ক্লাবটি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারানোর পর এবার লাস্কের বিপক্ষেও জয় পেল লিভারপুল। ফলে প্রতিযোগিতায় নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখল দলটি।
রোববার প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির কাছে নিজেদের মাঠে ৩-০ গোলে হারের পর এই জয় লিভারপুলের জন্য স্বস্তির। দলটির কোচ আন্দোনি ইরাওলার জন্যও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন।
লিভারপুলের কোচ ইরাওলা চলতি সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন, বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজের ওপর তার ‘শতভাগ’ আস্থা রয়েছে। গত বছর বায়ার লেভারকুসেন থেকে যোগ দেওয়ার পর ভির্টজও প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারছিলেন না।
আলেকজান্ডার ইসাক, কোডি গাকপো ও ডমিনিক সোবোসলাই চোটের কারণে অস্ট্রিয়া সফরে যেতে না পারায় আক্রমণভাগের দায়িত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল বারকোলা ও ভির্টজের ওপর। দুজনই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
টানা ১৮ দিনে ছয়টি ম্যাচ খেলতে হচ্ছে লিভারপুলকে। খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও চোটের ঝুঁকি কমাতে এই ম্যাচে একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন ইরাওলা। ভার্জিল ফন ডাইক, মিলোস কেরকেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ভিক্টর মুনোজকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। তাদের জায়গায় সুযোগ পান ফ্রিমপং, কোস্তাস সিমিকাস, ট্রে নিয়োনি ও রিও এনগুমোহা।
ম্যাচের ২২তম মিনিটে সিমিকাসের কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন আরাউহো। বার্সেলোনা থেকে ধারে আসা এই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গোলের মাত্র ৯৬ সেকেন্ড পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বারকোলা।
লাস্কের রক্ষণভাগে ঢুকে দুর্দান্ত দৌড়ের মাধ্যমে আক্রমণ তৈরি করেন এনগুমোহা। তার তৈরি সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন বারকোলা।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। ভির্টজের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে গোলটি করেন তিনি। বারকোলার বাড়ানো বলে ভির্টজ নিখুঁত ফিরতি পাস দিলে তা থেকে লক্ষ্যভেদ করেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা।
বিরতির পর ৫১তম মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন ফ্রিমপং। সিমিকাসের উঁচু করে বাড়ানো ক্রসে ছোটখাটো গড়নের এই ডাচ রাইটব্যাক দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান।
৬৩তম মিনিটে ইভান দিবাঙ্গোর পাস থেকে গোল করে ব্যবধান কমান রবার্ট লিউবিচিচ। তবে এর তিন মিনিট পরই ফ্রিমপংয়ের পাস থেকে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বারকোলা।
৭২তম মিনিটে ফ্রিমপংয়ের সহায়তায় জোরালো শটে লিভারপুলের ষষ্ঠ গোলটি করেন কোমাস।
এরপর ভার্জিল ফন ডাইক ও জো গোমেজকে মাঠে নামিয়েও রক্ষণ সামলাতে হিমশিম খায় লিভারপুল। ৭৪তম মিনিটে ফ্লোরিয়ান ফ্লেকারের হেডে দ্বিতীয় গোল পায় লাস্ক। তিন মিনিট পর কাছ থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফ্লেকার।
তবে শেষ দিকে লিভারপুলের রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিলেও বারকোলার দুর্দান্ত রাতের মাহাত্ম্য তাতে ম্লান হয়নি। বড় জয়ের পাশাপাশি সমালোচকদেরও শক্ত জবাব দিয়েছে লিভারপুল।
