কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্টার অধিকাংশ ভোটার। প্রদেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রাথমিক ফলাফলে ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে। খবর রয়টার্সের।
বিপরীতে, স্বাধীনতার প্রশ্নে বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন ২৩ শতাংশ ভোটার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোট গণনার ৩৩ শতাংশ শেষ হওয়ার পর এ ফল জানায় কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ।
গণভোটটি ছিল অ-বাধ্যতামূলক। ফলে এ ভোটের মাধ্যমে সরাসরি স্বাধীনতার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ফলাফলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আলবার্টার মানুষ স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে একসঙ্গে দেশ গড়ার পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, কানাডা তার বিভিন্ন অংশের যোগফলের চেয়েও বড়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে দেশের ঐক্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন কার্নি। তাই আলবার্টার এ ফল তার সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত মে মাসে গণভোটের ঘোষণা দেন আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ। সোমবার প্রাথমিক ফলে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্মিথ।
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দাবি করেন, প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদ থেকে অর্জিত অর্থ কানাডার দরিদ্র অঞ্চলগুলোকে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ না থাকলে আলবার্টা আরও সমৃদ্ধ হতে পারত বলেও তাদের যুক্তি।
তবে জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের পক্ষে।
গত সপ্তাহে ক্যালগারিতে এক সমাবেশে কার্নি সতর্ক করে বলেন, কানাডা ছাড়ার চেষ্টা বিপজ্জনক, যা দীর্ঘদিনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।
আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার বিরোধিতা করেছে ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠনও। কানাডার সঙ্গে তাদের ভূমি চুক্তিগুলো আলবার্টা প্রদেশ গঠনের আগের।
ভোটের দিন একটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার কেন্দ্রে ব্যালট শেষ হয়ে গেলে ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের সময় বাড়ানো হয়।
তবে এ ফল বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অবসান ঘটাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্দোলনের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ভোটার কানাডার পক্ষে গেলেও তারা ভবিষ্যতে আরেকটি গণভোটের দাবি চালিয়ে যাবেন।
সূত্র: রয়টার্স
