শ্রীনগরে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাঁসাড়া এলাকায় সড়ক বিভাজনের রেলিং ভেঙে সার্ভিসলেন পেরিয়ে পাশের খাদে পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দর্শনা পরিবহনের। এটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে এ সময় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। এছাড়া ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অপর আহত পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত তিন জনের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মইনুদ্দীন আহমেদ/অলি/
আরও পড়ুন
নড়াইলে অবৈধ ঘের খননে বিপাকে কৃষক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
অনুমোদনহীন ঘের খননের কারণে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নড়াইলের ইছামতি বিলে। ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের বিভিন্ন বিল ও নিম্নাঞ্চলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের খননের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে এসব ঘের খননের ফলে জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ও পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে কমছে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা, অন্যদিকে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে এক বা দুই ফসলি জমিতে। হাজার হাজার একর জমি বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধ থাকায় অনাবাদি পড়ে থাকছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। পাশাপাশি জলাভূমির স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিলের ভেতরের উন্মুক্ত স্থানে মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণ ও গভীর ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল, আমাদার বিল, ঘাঘার বিল ও ইছামতীর বিলসহ অন্তত ২০টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় এসব জমিতে সময়মতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
লোহাগড়া উপজেলার দিনোনাথপাড়া গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘একসময় ইছামতি বিলে আমরা বছরে একাধিকবার ফসল করতাম। তবে বিগত কয়েক বছর পানি আটকে থাকে। তাই একটির বেশি ফসল চাষ করা যাচ্ছে না।’
আরও পড়ুন
আমাদা বিলের কৃষক রইচ উদ্দীন টিপু বলেন, ‘বিলে এত পরিমাণ মাছের ঘের কাটার কারণে মধুমতি নদী থেকে কোনো প্রকার পানি বিলে আর আসে না। এ কারণে অনেক জমি বছরের পর বছর পুরোপুরি অনাবাদি থাকছে। এখন আর তিন ফসল হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন ঘাঘার বিলের কৃষক মাসুদ পারভেজ।
লোহাগড়া সরকারি কলেজের কৃষি বিভাগের সাবেক প্রধান কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান সেন্ট বলেন, ‘উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল। বিলগুলোতে একাধিক ঘের খননের ফলে পাখির নিরাপদ খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে পাখির আগমন কমছে, পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে জলজ প্রাণীর সংখ্যাও।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয় কেবল মাছ চাষের জায়গা নয়। ঘের খননের কারণে জমিগুলো ব্যক্তির দখলে চলে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর তাদের অধিকার হারাচ্ছেন।’
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, তিন ফসলি জমিতে ঘের না করার জন্য চাষিদের নিয়মিত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে জেলার তিনটি উপজেলার ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মৎস্য ঘের রয়েছে। তিনি আরও জানান, অন্তত ২০টি বিলে অপরিকল্পিতভাবে ঘের খননের কারণে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুল রহমান বলেন, ‘কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এক শ্রেণির মানুষ আইন অমান্য করে ঘের খনন করে যাচ্ছেন।’
পরিবেশ অধিদপ্তর, নড়াইলের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পাঁচ একরের নিচে ঘের খননের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পাঁচ একরের বেশি আয়তনের ঘেরের ক্ষেত্রে অবস্থানগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কেউ এ আইন মানছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জলাভূমি সংকুচিত হয়ে আসায় দেশীয় মাছ, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিচরণ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।’
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে অব্যবস্থাপনায় হারাচ্ছে সৈকতের সৌন্দর্য
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম
ড্রেনের নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে সৈকতের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে। গতকাল কক্সবাজারের কলাতলী মোড়ে। ছবি: খবরের কাগজ
-->বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার দিন দিন হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এর অন্যতম কারণ অব্যবস্থাপনা। কোথাও ড্রেনের নোংরা পানি গড়িয়ে যাচ্ছে সৈকতের দিকে, কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে জীর্ণ জিও ব্যাগ। এ ছাড়া সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা।
গতকাল শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টসহ সৈকতের বিভিন্ন অংশে বালুচরে পড়ে থাকতে দেখা যায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ডাব ও কলার খোসা, খাবারের উচ্ছিষ্টসহ নানা ধরনের বর্জ্য। কোথাও ছড়িয়ে রয়েছে ব্যবহৃত প্লাস্টিকসামগ্রী, কোথাও পড়ে আছে খাবারের অবশিষ্টাংশ। এদিকে কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায়, ড্রেনের নোংরা পানি সড়কের ওপর দিয়ে সৈকতের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে। বালুর বস্তা দিয়ে সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ড্রেন ও বিভিন্ন স্থাপনার নোংরা পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ার সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
আরও পড়ুন
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ‘কিছু হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য সৈকতের বালুচরে ফেলা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এসব বর্জ্য নিয়মিত অপসারণ না করায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ময়লা জমে থাকে। এতে পরিবেশ নোংরা হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়ায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।’
পর্যটকরা জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ দেখে তারা হতাশ। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসে এমন পরিবেশে স্বস্তিতে সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কুমিল্লার ধর্মপুর থেকে আসা পর্যটক সাইমন কিবরিয়া বলেন, ‘পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সৈকতে ঘুরতে এসে এমন পরিবেশ দেখে খারাপ লেগেছে। সৈকতের মতো সুন্দর এলাকায় এত আবর্জনা দেখলে হাঁটাচলা, গোসল করা ও স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে না।’
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক প্রসেনজিৎ শর্মা বলেন, ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছি। কিন্তু সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে খারাপ লেগেছে। পর্যটন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন।’
সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানের বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার চেষ্টা করি। কিন্তু অনেক পর্যটক যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলায় পুরো এলাকার পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের মূল আকর্ষণ সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, সেবার অনিয়মের অভিযোগ এবং পর্যটন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঘাটতি এই আকর্ষণকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।’
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ‘সৈকতে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য জমে থাকা শুধু সৌন্দর্য নষ্টের বিষয় নয়, এটি সামুদ্রিক পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাই সৈকতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদেরও পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হতে হবে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনার কাজ করতে গিয়ে সড়কে পানি ফেলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।’
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনিম জাহান বলেন, ‘পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট স্থানে যে পানি জমেছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন
মানিকগঞ্জে কোটি টাকার সড়ক নির্মাণের ছয় মাসেই ধস
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৫ এএম
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী সেতু থেকে আটিগ্রাম জিসি সড়কের চান্দিরচর এলাকায় পুকুর পাড়ে নির্মিত গাইডওয়াল ও সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। ছবি: খবরের কাগজ
-->নতুন সড়ক নির্মাণের ছয় মাসও হয়নি। এরই মধ্যে কোথাও সড়কের পাশের মাটি ধসে পড়েছে, কোথাও ভেঙেছে গাইডওয়ালসহ সিসি ব্লক। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ধলেশ্বরী সেতু থেকে আটিগ্রাম জিসি সড়কের চার-পাঁচটি স্থানে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটিতে বর্তমানে বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ধরেছে। চান্দিরচর এলাকায় পুকুরের পাশে নির্মিত গাইডওয়ালসহ সিসি ব্লক ধসে পড়েছে। এতে সড়কের প্রস্থ কমে গেছে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি-৪ প্রকল্পে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। ধলেশ্বরী সেতু থেকে আটিগ্রাম জিসি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ৪১০ মিটার সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা। গাজীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজ কাজটি করে। চলতি বছরের জুনে সড়কটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বুঝে নেয়।
আরও পড়ুন
সড়কটি দিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। এ পথে জেলা শহর ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাওয়া যায়। এলাকার কৃষকরাও উৎপাদিত সবজি নিয়ে বিভিন্ন আড়তে যান। সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ায় তাদের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ চলার সময়ই সড়কের মান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন তারা। তবে তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পায়নি। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্মাণের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চান্দিরচর গ্রামের বাসিন্দা কমলা বেগম বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমার বাড়ির সামনের সড়কে। পুকুরের পাশে যে সিসি স্ল্যাব দেওয়া হয়েছিল, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেগুলো পুরোপুরি ধসে যায়। এরপর থেকে এই পথে গাড়ি চলাচলে বেশ সমস্যা হচ্ছে। নির্মাণকাজের সময় যারা কাজ করছিলেন, তাদের বারবার বলেছি ভালোভাবে কাজ করতে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেননি।’
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ চলাচল করেন। নতুন সড়কটির চার-পাঁচটি জায়গায় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। কাজ শুরু হয়েছিল দুই থেকে আড়াই বছর আগে, আর শেষ হয়েছে এ বছরের জুনে। এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় ভাঙন ধরেছে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে সামনে কী হবে?’
ইজিবাইকচালক মো. সায়েম বলেন, ‘সড়কের বাঁকগুলোতে ধস দেখা দিয়েছে। একটু এদিক-সেদিক হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিপরীত দিক থেকে কোনো গাড়ি এলে পাশাপাশি যাওয়া যায় না। তখন এক গাড়িকে অন্যটির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নতুন সড়কের কাজ ভালো হলে ছয় মাসের মধ্যে কি এভাবে ভেঙে যেত?’
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জুঁই এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘নির্মাণকাজ শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী সড়কটি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কাজের জামানতের টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। সড়কের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করা হবে।’
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনার পর ঠিকাদারকে পরপর তিনটি চিঠি দিয়েছি। সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে যাওয়ায় ঠিকাদারকে দিয়ে সেগুলো পুনরায় মেরামত করিয়ে নেওয়া হবে। ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি মেরামত হয়ে যাবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার এবং সড়ক নির্মাণের মান ও তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন
অর্থের অভাবে বন্ধ হবে না পড়াশোনা, সবার জন্য নিশ্চিত হবে চিকিৎসা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ
-->বাংলাদেশে মাদক উৎপাদন হয় না, কোনো না কোনোভাবে মিয়ানমার থেকে দেশে মাদক প্রবেশ করে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না; এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, মেধাবী ও অসহায় শিক্ষার্থী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিশেষ অনুদান ও হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, যারা মাদক বিক্রি ও আদান-প্রদানের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সাধারণ মানুষ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে প্রশাসনের পক্ষে মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে।
তিনি বলেন, অনেক ছোট ছোট শিশু আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যায় পড়ে। অর্থের অভাবে কোনো মানুষের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে এটি বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজে অনেক অসহায় ও অবহেলিত মানুষ রয়েছেন, যারা অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার সবার জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা দিতে সরকার প্রতি রোগীর জন্য এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের মাঝে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ অনুদান ও সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাহারছড়া ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪৬ জনকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৯২ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়া হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধার্থে ৫টি হুইলচেয়ারও বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, অসহায় শিক্ষার্থী ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি সহায়তার সুফল প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬ সালে টেকনাফ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৯০০ জন গর্ভবতী নারীকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কক্সবাজার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. শাহি নেওয়াজ, টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, টেকনাফ উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. হাবিবা জাহান, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, উপকারভোগী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএন/
