মামলার জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক মর্গ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর আধুনিক হিমঘরের অভাবে মরদেহের ন্যূনতম সম্মানটুকুও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, নির্মাণাধীন ভবনটি পরিণত হয়েছে মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে।
২০২২ সালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মর্গ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও মামলার জটিলতায় প্রায় দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দীর্ঘসূত্রতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কাজ আর এগোয়নি। ফলে অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার ব্যক্তিদের মরদেহ নিয়ে স্বজনদের চরম অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি গত মে মাসে হত্যা, অপমৃত্যুসহ কয়েকটি ঘটনায় একই দিনে হাসপাতাল ও থানা চত্বরে ছয়টি মরদেহ আনা হয়। সদর থানা পুলিশের একটি ছোট লাশঘর থাকলেও সেখানে সব মরদেহ রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে একটি মরদেহ রাখতে হয় মেঝেতে। একটি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য মরদেহগুলোর জন্য স্বজনদের তীব্র গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়। এ অবস্থায় মরদেহগুলো পচে যাওয়ার উপক্রম হয়।
হাসপাতাল সড়কের দক্ষিণ কোণে প্রধান সড়কের পাশেই দেখা যায় অসমাপ্ত আধুনিক মর্গ ভবনটি। বর্তমানে সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় দ্বিতল আধুনিক মর্গ নির্মাণের কথা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে তিনটি কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে স্থানীয় কিছু মানুষ মর্গ নির্মাণ নিয়ে ভৌতিক কল্পকাহিনি সাজিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। এরপর থেকেই নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ চান জেলাবাসী।
হৃদয় হোসেনের পরিবারে একজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। সে সময় হাসপাতালে অন্য একটি মরদেহের সুরতহালের কাজ চলছিল। ফলে বাধ্য হয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহটি বাইরে দীর্ঘ সময় রাখতে হয়। দ্রুত শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আধুনিক মর্গ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা প্রিন্স মাহমুদ জানান, মর্গ নির্মাণের কাজ বন্ধ থাকায় সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন ধরনের অপকর্মও চলে। দ্রুত আধুনিক মর্গের নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি সম্পন্ন হলে পাবনার জেলাবাসী উপকৃত হবে।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির ও জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, মামলার জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
প্রায় ৩০ লাখ মানুষের এই জেলায় আধুনিক হিমঘর না থাকায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ দুর্ভোগের অবসানে দ্রুত সমস্যার সমাধান চান জেলাবাসী।
এমএ
