চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যাওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাপমারায় তাঁর নিজ বাড়িতে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
চেসির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে। শিক্ষক, সহপাঠী ও বন্ধুরা স্মৃতিচারণা করে তুলে ধরছেন তাঁর স্বপ্ন ও একসঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের কথা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জুম শিক্ষার্থী পরিবার চেসির স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন ও স্মরণসভার আয়োজন করে। এতে তাঁর বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বন্ধুরা অংশ নেন। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও দুই উপ-উপাচার্য এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
স্মরণসভায় চেসির সহপাঠী পুষ্পিতা বলেন, ভালোভাবে পড়াশোনা করে বিদেশে যেতে চেয়েছিল চেসি। প্রতিষ্ঠিত হয়ে মা-বাবার দায়িত্ব নেওয়া ও তাঁদের ভালোভাবে দেখাশোনা করাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবত চেসি।
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সুফল চাকমা বলেন, ‘চেসি দিদি আমার কাছে অভিভাবকের মতো ছিলেন। ক্যাম্পাসে আসার পর থেকেই তাঁর স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছি। একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া, গল্প করা, মাঝেমধ্যে রান্না করে খাওয়ানোর স্মৃতিগুলো আজও মনে পড়ে।’

মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সভাপতি অমিত কুমার দত্ত বলেন, ‘চেসির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। সে অত্যন্ত মেধাবী, সম্ভাবনাময় ও সবার প্রিয় একজন শিক্ষার্থী ছিল। এত মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিল মেয়েটি, যা সত্যিই অভাবনীয়।’
চেসির স্মৃতি ধরে রাখতে বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, চেসি সবার হৃদয়ে ও বিভাগের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।
এর আগে গত সোমবার রাজশাহীর বাগমারায় এক সহপাঠীর বাসায় পূজার দাওয়াতে যান চেসি। সন্ধ্যায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে দুর্গাপুর এলাকায় একটি দ্রুতগতির ট্রাক অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি।
প্রথমে তাঁকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। মঙ্গলবার উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয় তাঁকে। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৭ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
