চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে (তৃতীয় প্রান্তিক) দেশে ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। শনাক্ত ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক অপতথ্য। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রাজনৈতিক অপতথ্যের পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে, খেলাধুলা, শিক্ষা, জ্বালানিসংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্যের প্রচার বেড়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশে মোট ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি গণমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও দেখা গেছে।
ভুল তথ্যের বিস্তারে প্ল্যাটফর্মভিত্তিক পরিবর্তন
২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনায় প্ল্যাটফর্মভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেসবুকে সর্বাধিক ৩ হাজার ৯২৮টি ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে ৭৮৪টি, টিকটকে ৭৪৯টি, ইউটিউবে ৩৬০টি, গণমাধ্যমে ২৮১টি, এক্সে ১৯৮টি এবং থ্রেডসে ১২০টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
প্রান্তিকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফেসবুকে ভুল তথ্যের সংখ্যা কমলেও তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য বেড়েছে। টিকটকে তিন প্রান্তিকেই হ্রাসের প্রবণতা ছিল। বিপরীতে, গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে তৃতীয় প্রান্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নির্বাচন থেকে জ্বালানিসংকট: আলোচনায় যে ইস্যু, ভুল তথ্যেও তার ছাপ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাজনৈতিক অপতথ্যের প্রবাহ বেশি ছিল। তবে পরবর্তী দুই প্রান্তিকে তা কমেছে। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে রাজনৈতিক অপতথ্যের সংখ্যা প্রায় ৫২ শতাংশ কমেছে।
আরও পড়ুন
তবে খেলাধুলা নিয়ে ভুল তথ্যের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকে ১৭০ শতাংশ বেড়েছে। শিক্ষা বিষয়ক ভুল তথ্যও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় বিষয়ে ভুল তথ্যের প্রবণতা শেষ প্রান্তিকে ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিনোদন, সাহিত্য ও প্রতারণা সংক্রান্ত ভুল তথ্যের পরিমাণ কমেছে।
তৃতীয় প্রান্তিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও, হবিগঞ্জে এনসিপির ওপর হামলা, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ, আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা এবং যুবলীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানিসংকট ও মূল্যবৃদ্ধিও ভুল তথ্য প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। শুধু প্রান্তিকের শেষ দুই মাসেই জ্বালানি ইস্যুতে অন্তত ৩৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবল, ভারতে ‘ককরোচ পার্টি’র আন্দোলন, বাংলাদেশ ও নেপালের বন্যা এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।
রাজনৈতিক অপতথ্যের দলীয় চিত্র
বছরের প্রথম ৯ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঘিরে অপতথ্যের ক্ষেত্রে বিএনপি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত। দলটি, এর সহযোগী সংগঠন ও নেতা-কর্মীদের ঘিরে ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ৮৭৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশ নেতিবাচক। নির্বাচনের আগে দলটির রাজনৈতিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে অপতথ্যের প্রবাহ বেশি থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে তৃতীয় প্রান্তিকে আবার বেড়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ঘিরে শনাক্ত হয়েছে ৪৩১টি অপতথ্য। এর প্রায় ৯১ শতাংশই নেতিবাচক, যা আলোচিত দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতিবাচক হার।
অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ঘিরে ৯২২টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল ইতিবাচক। দলটির নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের অনলাইন উপস্থিতি এবং দলটির পক্ষে ইতিবাচক বয়ান তৈরির প্রবণতা এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানোর প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে এসেছে।
অপতথ্যের শিকার দলীয় প্রধানরা
প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে ঘিরে মোট ৮৪৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
এর মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ২৫৮টি, ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে ১৩০টি এবং নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ৪৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিকে এই চার নেতাকে ঘিরে ৪৭৭টি অপতথ্য শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ১৯৩টি এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১৭৫টিতে দাঁড়ায়। তারেক রহমানকে ঘিরে অপতথ্যের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের ২৮৭টি থেকে কমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে যথাক্রমে ৬৪ ও ৫৯টি হয়েছে।
তবে নেতিবাচক উপস্থাপনার হার তারেক রহমানের ক্ষেত্রে প্রায় ৮৭ শতাংশ, ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে ৮৯ শতাংশ এবং নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে ৯৪ শতাংশ। বিপরীতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে শনাক্ত অপতথ্যের প্রায় ৮৪ শতাংশই ছিল ইতিবাচক।
বিএনপি সরকারকে ঘিরে ৪৯১ অপতথ্য
ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরেও অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। প্রথম তিন প্রান্তিকে সরকার, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের ঘিরে মোট ৪৯১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে শনাক্ত হয়েছে ১৮৬টি। এসব অপতথ্যের প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল সরকারের জন্য নেতিবাচক।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে তিন প্রান্তিকে যথাক্রমে ৬৫, ৬৩ ও ৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে তাকে নিয়ে শনাক্ত ১৮৬টি অপতথ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশই ছিল নেতিবাচক।
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের ঘিরে মোট ২০৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ঘিরে সর্বাধিক ৫৩টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে।
একই সময়ে মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে আ ন ম এহছানুল হক মিলন (৩৪), মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (২০), শেখ রবিউল আলম (৬), শামা ওবায়েদ (৫), হুমায়ুন কবির (৪), জোনায়েদ সাকি (৩), ফকির মাহবুব আনাম স্বপন (২), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (৯), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (২), ববি হাজ্জাজ (২), মো. আসাদুজ্জামান (৫), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (১৯), অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (১), নুরুল হক নুর (৯), ড. খলিলুর রহমান (৭), ইশরাক হোসেন (৫), আমিনুল হক (১), জহির উদ্দীন স্বপন (১), নিতাই রায় চৌধুরী (১), মিজানুর রহমান মিনু (১), আফরোজা খানম রিতা (১), আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (১), ফরহাদ হোসেন আজাদ (১) এবং আন্দালিভ রহমান পার্থ (২) অপতথ্যের শিকার হয়েছেন।
এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভীকে নিয়ে ১৭টি, মির্জা আব্বাসকে নিয়ে ৭টি, ডা. জাহেদ উর রহমানকে নিয়ে ১৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে নিয়ে ৩টি এবং রাশেদ খাঁনকে নিয়ে ৫টি অপতথ্য ছড়িয়েছে এই সময়ে।
এর বাইরে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে জড়িয়ে ২৪টি এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে জড়িয়ে ২টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে গত ৯ মাসে ফজলুর রহমান ১৬টি, লুৎফুজ্জামান বাবর ৮টি অপতথ্যের শিকার হয়েছেন।
বাহিনীকে ঘিরে ভুল তথ্য কমেছে
প্রথম তিন প্রান্তিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীকে ঘিরে ২৪৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে ১১৫টি এবং বাংলাদেশ পুলিশকে ঘিরে ১১২টি ঘটনা পাওয়া গেছে। এই দুই বাহিনীকে ঘিরেই মোট ভুল তথ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।
প্রথম প্রান্তিকে বাহিনীগুলোকে ঘিরে ১৩৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা কমে ৬১টি এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৪৯টিতে দাঁড়ায়।
সেনাবাহিনীকে ঘিরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে যথাক্রমে ৭০, ২৬ ও ১৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশকে ঘিরে একই সময়ে শনাক্ত হয়েছে ৫৮, ২৮ ও ২৬টি ঘটনা।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে তিন প্রান্তিকে ২২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা বাহিনীগুলোর প্রধানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ছাড়া বিজিবি, র্যাব, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে ঘিরেও ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।
গণমাধ্যমের পরিচয় জাল, এআই ও সার্কাজমে নতুন চ্যালেঞ্জ
২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে মোট ৮৫০টি অপতথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে এ ধরনের ৫৯৩টি ঘটনা শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে যথাক্রমে ১২৭ ও ১৩০টি ঘটনা পাওয়া যায়।
এআই ব্যবহার করে তৈরি বা এআই-সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের সংখ্যা প্রথম ৯ মাসে ৭১২টি। এর মধ্যে ৫৪টি ছিল ডিপফেক কনটেন্ট। প্রথম প্রান্তিকে এ ধরনের কনটেন্ট শনাক্ত হয় ২৯৪টি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২১০টি এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ২০৮টি। তবে ডিপফেক কনটেন্টের সংখ্যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৭টি থেকে বেড়ে তৃতীয় প্রান্তিকে ১৬টিতে দাঁড়ায়।
এদিকে, ব্যঙ্গাত্মক বা সার্কাজম কনটেন্টকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতাও বেড়েছে। এপ্রিল থেকে এ ধরনের অপপ্রচারের তথ্য নথিভুক্ত শুরু করে রিউমর স্ক্যানার। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৯২টি ঘটনা শনাক্ত হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ২৩১টিতে দাঁড়ায়, যা এক প্রান্তিকে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি।
সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের বিস্তারে বদল
প্রথম তিন প্রান্তিকে ভারতীয় উৎস থেকে ছড়ানো অপতথ্যের সংখ্যা প্রথম প্রান্তিকের ৬৪টি থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩১টিতে নেমে আসে। তৃতীয় প্রান্তিকে তা সামান্য বেড়ে ৩২টি হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের ক্ষেত্রেও উৎসভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশি উৎস থেকে এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা বাড়লেও ভারতীয় উৎস থেকে তা কমেছে। তৃতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশি উৎসের অপতথ্য কমলেও ভারতীয় উৎসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমে অপতথ্য প্রচারের ঘটনা প্রথম প্রান্তিকের ৯টি থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৮টিতে নেমে এলেও তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে ১৪টিতে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসের পরিসংখ্যানে রাজনৈতিক অপতথ্যের প্রান্তিকভিত্তিক হ্রাসের পাশাপাশি খেলাধুলা, জ্বালানিসংকট, দুর্যোগ ও সমসাময়িক ঘটনাকেন্দ্রিক বিভ্রান্তির বিস্তার স্পষ্ট হয়েছে। গণমাধ্যমের পরিচয় জালিয়াতি, এআই-নির্ভর কনটেন্ট এবং সার্কাজমকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচারের প্রবণতা ভুল তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
সালমান/
