শহীদ ওসমান হাদির বিয়ের ৬ বছর আজ, স্মৃতিচারণ করে যা বলল বোন
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিয়ের ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে স্মৃতিময় একটি পোস্ট দিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ ৬ বছর পূর্ণ হলো আমাদের ওসমান গনির বিয়ের। মায়ের নামাজের চৌকি সাজানো হয়েছে ওসমান গনির বিয়ের হলুদ সন্ধ্যার মঞ্চ। তিন দুলাভাইয়ের সঙ্গে মায়ের নামাজের চৌকিতে আমাদের ছোট্ট পাখিটা।’ পোস্টে বিয়ের হলুদ সন্ধ্যার মঞ্চ ও মায়ের নামাজের চৌকিকে ঘিরে পরিবারের স্মৃতির কথা তুলে ধরেন মাসুমা হাদি। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে তার লাশ দেশে এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।

ফখরুদ্দীন-হাসিনার হাত ধরেই দেশে স্বৈরাচারের উত্থান: মীর শাহে আলম
বগুড়াকে দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, গত ২০ বছর ধরে বগুড়ার মানুষ উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। উন্নয়নের সুফল দৃশ্যমান হতে কিছুটা সময় লাগলেও বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘বগুড়ার উন্নয়ন: সমস্যা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মীর শাহে আলম বলেন, কৃষিতে উদ্বৃত্ত বগুড়ায় বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। অথচ সম্ভাবনাময় এই জেলাকে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বগুড়াকে শিল্প, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নগরায়ণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া বহুমাত্রিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। তিনি জানান, বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলার উন্নয়নে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং পৌরসভাগুলোর জন্য দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। বগুড়া ওয়াসা ও বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শিগগির শুরু হবে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বিভিন্ন মহাসড়ক চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। যমুনার ভাঙন রোধ, পানি সংরক্ষণে ড্যাম্প স্টেশন নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণেও পরিকল্পনা রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করার পাশাপাশি করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন। জাতীয় উন্নয়ন বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরো দেশকে সমান চোখে দেখেন। রংপুর সিটি করপোরেশন ও গোপালগঞ্জের উন্নয়নে বরাদ্দের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জন্য নয়; দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের লক্ষ্য। শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে সরকারের ইতিবাচক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘হিন্দুরা কারও পকেটের লোক নয়, গত নির্বাচনে তাঁরা তা প্রমাণ করেছেন। তাঁরা স্বাধীনভাবে নিজেদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, আওয়ামী লীগ উত্তরাঞ্চলের মানুষকে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দিয়েছে। মঈনুদ্দীন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ও মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। অতীতের এসব অভিজ্ঞতা ভুলে গেলে চলবে না। শুধু গত ১৭ বছরের নির্যাতন নয়, গত ২০ বছরের নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাসও তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘বট-গুপ্ত শুধু আওয়ামী লীগ বা জামায়াতে নেই, নিজেদের দলেও আছে। হিংসা থেকে অপপ্রচার চালিয়ে কোনো লাভ নেই। আসুন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করি। বগুড়ার স্বার্থে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হই।’ শহরের যানজট ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়ার উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া দীর্ঘদিন বঞ্চিত থেকেছে। এই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার উন্নয়ন করতে হবে। আমরা তা করব, ইনশাআল্লাহ। বিগত ২০ বছরে বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে যে ভণ্ডামি হয়েছে, আপনারা তার সাক্ষী। তিনি বলেন, বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বগুড়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আরাফাত রহমান কোকোর নামে একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হলেও সেটি অবহেলা ও অযত্নে পড়ে ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বগুড়ার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে রুমন বলেন, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের কোথাও ন্যূনতম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ‘আপনারা সত্যকে সত্য হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাদের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তা কারও বিরুদ্ধে গেলেও আমরা স্বাগত জানাব।’ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ ইসলাম আলমগীর পাভেল, পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান, বগুড়া সিটি প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কুদরত-ই-জাহান, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আকন্দ এবং নাজ গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী শোকরানা প্রমুখ।

ফেসবুকে এনসিপি নেতার ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ প্রদর্শন নিয়ে ব্যাপক তোলপাড়!
পাবনার সাঁথিয়া পৌর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব মুজাহিদ ফকিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের স্টোরিতে ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ প্রদর্শনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।ৎ আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ভিডিওটি আপলোড করার প্রায় ঘণ্টাখানেক পর তা নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ডিলিট করেন ওই নেতা। তবে এর আগেই ভিডিওটি ডাউনলোড ও স্কিনশট করে নেন অনেক ব্যবহারকারী। পরবর্তীতে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে তা প্রকাশ করে ওই এনসিপি নেতার শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তির হাত ও পায়ের কিছু অংশ দৃশ্যমান। এদের মধ্যে একজন একটি আগ্নেয়াস্ত্র ফ্লোরে রাখার পর অন্যজন সেটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে প্রদর্শন করছেন। তবে পুরো ভিডিওতে দুজনের কারোরই মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোনো অংশ স্পষ্ট দেখা যায়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। উদ্বেগ জানিয়েছেন রাজনীতিবিদরাও। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, যে ধরণের অস্ত্রই হোক, এভাবে প্রদর্শন করার উদ্দেশ্য জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা বলে আমরা মনে করছি। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ভালো কাজে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করলেও তাকে মন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে। সেখানে রাজনৈতিক নেতা হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝে মাঝেই এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করছেন মুজাহিদ ফকিরসহ কয়েকজন। দ্রুতই এদের ব্যাপারে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এগুলো এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, মুজাহিদ ফকির এর আগেও ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্রের ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় পুলিশের তদন্তে সেটি খেলনা পিস্তল বলে প্রমাণিত হয়েছিল। এবার যে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি আসল কোনো আগ্নেয়াস্ত্র কিনা- তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ওসি বলেন, এটি যদি আসল আগ্নেয়াস্ত্র হয়ে থাকে, তবে তা প্রদর্শনের কোনো আইনি বৈধতা রয়েছে কিনা-তা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া একজন রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে জনমনে ভীতি বা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে এই পোস্ট দেওয়া হয়েছে কিনা- সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। সাঁথিয়া উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. বকুল বলেন, কয়েকদিন ধরেই মুজাহিদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না, ভিডিওটি দেখিনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি শুনতে পেয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।

যুবদল নেতাকে গুলি করে হ'ত্যা, পুলিশের জালে কে এই লুবনা?
মাগুরায় পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে শামীমা তাবাসসুম লুবনা ও রনি সিকদারকে আটক করা হয়। এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। আটক শামীমা তাবাসসুম লুবনা মাগুরা সদর উপজেলার বজরুক শ্রীকুন্ডী গ্রামের লুৎফর রহমানের মেয়ে। আর রনি শিকদার মাগুরা পৌরসভার তাঁতিপাড়া এলাকার বীরেন্দ্রনাথ শিকদারের ছেলে। রনি শিকদার যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ইউনিটের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য । পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, দুইজনকে হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। রাজনৈতিক টার্গেট কিলিং, পরকীয়া, সোনা চোরাচালান ও জমি দখলসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক দুইজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। এর আগে, গতকাল বুধবার ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

একতাবদ্ধ ইসলামী ৭ দল, জামায়াতের জোট ছাড়ার বিষয়ে যা জানা গেল!
কওমি ঘরানার সাতটি সমমনা ইসলামী রাজনৈতিক দল নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন না করে ‘সমমনা ইসলামী দল’ নামে অভিন্ন ব্যানারে একসঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মাখযানুল উলুম মাদরাসায় সাত দলের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে মৌলিক আলোচনায় প্রাথমিকভাবে চারটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে- অন্যান্য জোটে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণ: বর্তমানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামীর মতো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকা দলগুলো পর্যায়ক্রমে নিজ নিজ দলীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে সমমনা ইসলামী দলের এই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অগ্রসর হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার। তিনি বলেন, মূলত এটি হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে কিংবা লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে আলোচিত একটি নির্দেশনা বা প্রস্তাব। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি এই সাত দল ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়, তবে আমরাও তাদের সাথে নির্বাচনে যেতে আগ্রহী। অন্যদিকে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের যে আন্দোলন চলমান রয়েছে, আমরা সেই আন্দোলনের সাথে আছি এবং যৌক্তিক পরিণতি না পৌঁছানো পর্যন্ত আমরা তাদের সাথেই থাকব। তিনি আরও বলেন, আর অন্য কোনো রাজনৈতিক জোট ছেড়ে আসার বিষয়টি তাৎক্ষণিক কোনো বিষয় নয়; বরং পরিস্থিতির আলোকে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

