রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করেছে সরকার। নতুন নিয়মে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদে দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও এসব ব্যাংকের এমডি হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার শর্ত আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল)— এই ছয় ব্যাংকের এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এর আগে এসব ব্যাংকের এমডি হতে হলে ডিএমডি পদে অন্তত দুই বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন সংশোধনীতে সেই শর্ত তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও ডিএমডি পদে দুই বছর দায়িত্ব পালনের শর্ত পূরণ করতে না পারায় যারা এমডি হওয়ার সুযোগ পেতেন না, তাদের জন্য পথ খুলল।
তবে এ পরিবর্তন নিয়ে ব্যাংক খাতে প্রশ্নও উঠেছে। ব্যাংকারদের একাংশের অভিযোগ, পছন্দের প্রার্থীদের এমডি পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করতেই অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ডিএমডি পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক থাকায় এত দিন এ ধরনের নিয়োগ দেওয়া কঠিন ছিল। তবে নীতিমালায় শুধু চাকরির জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা নিয়োগ না দিয়ে কর্মদক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, চাকরির রেকর্ড এবং ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রার্থীর দীর্ঘ চাকরিজীবনের পাশাপাশি তার পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নের বিষয় হবে।
নয় মাসে তিনবার নীতিমালা পরিবর্তন : রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের নীতিমালায় গত নয় মাসে তিন দফা পরিবর্তন এনেছে সরকার। গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম, ২৬ জুলাই দ্বিতীয় এবং ১৯ অক্টোবর তৃতীয়বারের মতো নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়। এর আগে, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। গত ২৬ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপনের শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা’। সর্বশেষ সংশোধনের পর এটি সংশোধিত নীতিমালা হিসেবে অভিহিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগে মনোনয়ন দিবে সরকার, অনাপত্তি লাগবে বাংলাদেশ ব্যাংকের : নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার সরাসরি নিয়োগ না দিয়ে এমডি পদে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। তবে ছয়টি বিশেষায়িত ব্যাংক, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এমডি নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যাচাইয়ে আগের শর্ত : এমডি পদে নিয়োগ পেতে প্রার্থীকে স্বীকৃত
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্তত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হতে হবে। শিক্ষাজীবনের কোনো পর্যায়ে তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়া বাছাই কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি প্রার্থীর গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিধানও রাখা হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে মূলত ডিএমডি পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য যাচাইয়ের শর্ত বহাল রয়েছে।
