আইইএর পরিচালনা পর্ষদ জানায়, সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সদস্যদেশগুলোকে জরুরি মজুদ থেকে অবশিষ্ট জ্বালানি তেল দ্রুত ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জরুরি মজুদ থেকে আরো প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। এর মধ্যে ডিজেল রয়েছে দুই কোটি ব্যারেলের বেশি। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের গত বৃহস্পতিবারের বৈঠকে অবশিষ্ট তেল দ্রুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয় সংস্থাটির সদস্যদেশগুলো। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়ার যৌথ উদ্যোগ নেয় আইইএ। এর আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে অবশিষ্ট মজুদও দ্রুত বাজারে আসবে। এতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
আইইএর পরিচালনা পর্ষদ জানায়, সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সদস্যদেশগুলোকে জরুরি মজুদ থেকে অবশিষ্ট জ্বালানি তেল দ্রুত ছাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি দেশ নিজস্ব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অবশিষ্ট জ্বালানি তেল ছাড়বে বাজারে। কয়েকটি সদস্যদেশ এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনাও করেছে।
জরুরি মজুদ থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে এমন দেশগুলোকে সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে আইইএ। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি, যেমন ডিজেল উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকরা বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহে ঘাটতি থাকলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দাম নয়, ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও চাপ তৈরি হতে পারে। পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও শিল্প উৎপাদনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে এ জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইইএ।’
