মানুষ মারতে স্টারলিংক ব্যবহার করছে ইউক্রেন: ইলন মাস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত
-->ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের সার্ভিস টার্মস বা ব্যবহারের শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে এবং মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে ড্রোন হামলায় এটি ব্যবহার করেছে-এমন অভিযোগ করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইউক্রেনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংক এবং এর সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’-এর গতি ও সংযোগ স্বাভাবিক হওয়ার পরপরই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মাস্ক।
গত সপ্তাহে ইউক্রেনে স্টারলিংক ব্যবহারের ওপর হঠাৎ কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং এর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যা দেশটির সামরিক অপারেশন ও ফ্রন্টলাইনের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়। এ নিয়ে ইউক্রেন ও পশ্চিমা মহলে ব্যাপক কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে গত শনিবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায় যে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের গতি ও সংযোগ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে স্পিড বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
আরও পড়ুন
এই সংযোগ পুনরুদ্ধারের পরই ইলন মাস্ক তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে সাফ জানিয়ে দেন কেন স্পেসএক্স ওই কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের টার্মস অব সার্ভিস লঙ্ঘন করেছে এবং মানুষ মারার জন্য আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলায় এটি ব্যবহার করেছে। গত সপ্তাহেই সেই লুপহোল বা ত্রুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
ইলন মাস্ক আরও বলেন, বিশ্বের অন্য যে কোনো বেসরকারি কোম্পানির তুলনায় ইউক্রেনের রক্ষায় স্পেসএক্স অনেক বেশি সহায়তা করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার জ্যামিং বা যোগাযোগ ব্লকেড মোকাবিলা করে ইউক্রেনকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল স্টারলিংক। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান ফ্রন্টলাইন রক্ষার জন্য স্টারলিংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এমন একটি সিস্টেম যা অন্তত আপাতত জ্যাম করা বা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তবে একই সঙ্গে ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পেছনে ভূমিকা রাখা যুদ্ধবাজ পক্ষগুলোর প্রতি নিজের চরম অবজ্ঞা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ফ্রন্টলাইনে যোগাযোগ, রসদ ও রুশ ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের গুরুত্বের ওপর বারবার জোর দিয়ে আসলেও, মাস্কের এই নতুন অভিযোগ যুদ্ধের মাঠে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
ট্রাম্পের নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা ওবামার
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত
-->যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বর্তমান প্রশাসনের নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ক্লুভল্যান্ড পাবলিক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ওই সমাবেশে ওবামা ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট ধারাবাহিকভাবে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগে ইরানে অযৌক্তিক যুদ্ধ শুরু করার জন্য তিনি ট্রাম্পকে দায়ী করেন।
৬৫ বছর বয়সী ডেমোক্রেট নেতা ওবামা বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমন একটি অনাবশ্যক যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা কেউ চায়নি।’
আরও পড়ুন
রিপাবলিকান প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আধুনিক যুগে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার নজির আমরা আগে দেখিনি। এখন সময় এসেছে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ বলার।‘’
সমাবেশে ওবামা ওহাইওর গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিতর্কিত নির্বাচনী বিজ্ঞাপন নিয়েও কথা বলেন। ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের বিরুদ্ধে তৈরি করা ওই বিজ্ঞাপনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এমন কোনো সীমা নেই যা তিনি অতিক্রম করবেন না, কিংবা এমন কোনো নিচে তিনি নামবেন না।
ওই বিজ্ঞাপনে অ্যামি অ্যাক্টনের মা ডোনা আর্থার তার মেয়ের শৈশবের গৃহহীনতা ও সৎবাবার যৌন নিপীড়নের দাবিকে অস্বীকার করে ওহাইওবাসীকে তাকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে অ্যাক্টন জানিয়েছেন, ১৯৭৮ সালের পর থেকে তিনি তার মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। এছাড়া অ্যাক্টনের ভাইও শৈশবে সৎবাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বোনের দাবিকে সমর্থন করেছেন। ২০০৪ সালে মৃত ওই সৎবাবার বিরুদ্ধে পূর্বে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অ্যাক্টনের পাশে দাঁড়িয়ে ওবামা বলেন, তিনি তার শৈশবের বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা-অত্যাচার, অবহেলা ও গৃহহীনতার কথা অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরেছেন।
আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই সমাবেশে ওবামার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অ্যামি অ্যাক্টন এবং ওহাইওর সাবেক ডেমোক্রেটিক সেনেটর শেরর্ড ব্রাউন। বর্তমান রিপাবলিকান সেনেটর জন হাস্টেডের বিরুদ্ধে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্রাউন।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, ওহাইওর উভয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই ডেমোক্রেটরা সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে, তবে ফলাফল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আজহার/
আরও পড়ুন
তাইওয়ানে টাইফুন ‘চাম্পি’র তাণ্ডবে নিহত ১, আহত ৫ শতাধিক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’। এর আঘাতে অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন ৫’শ জনেরও বেশি মানুষ। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী এই ঝড়টি একপর্যায়ে সুপার টাইফুনের রূপ নিয়েছিল। বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হলেও এর কেন্দ্রের কাছাকাছি বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূলেই আঘাত হানার পর ঝড়টি দ্বীপটির প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পূর্ব দিক দিয়ে অতিক্রম করে। বর্তমানে এটি শক্তি হারিয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরমুখী অগ্রসর হচ্ছে এবং পরবর্তীতে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে সরে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, লিউকুইউ দ্বীপের উপকূলে বিশালাকার ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া প্রবল বাতাস ও মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সারা দেশে ৫২৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘তাইপাওয়ার’ জানিয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে একপর্যায়ে ১ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল, যার বেশিরভাগেরই সংযোগ এরই মধ্যে মেরামত করা হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৪২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, তবে শুক্রবারের তুলনায় (যেদিন প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল) পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় তাইওয়ান সাধারণত অত্যন্ত প্রস্তুত থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে। গ্রীষ্মকালে এ ধরনের ঝড় বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও মাঝে মাঝে এর আঘাত হানার রেকর্ড রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
আজহার/
আরও পড়ুন
ইরানে আরেকটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ হতে পারে: ট্রাম্প
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আবারও ‘ছোট্ট একটা এপিক ফিউরি’ সামরিক অভিযান চালাতে পারে।
ট্রাম্প মূলত পূর্ববর্তী মার্কিন সামরিক অভিযানের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা হয়তো আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি চালাব, নতুবা তারা চুক্তিতে রাজি হবে।’ তেহরানের নেতৃত্বের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, ‘তারা যদি বুদ্ধিমান হয়, তবে বলবে-‘এসো, আমরা চুক্তিতে আসি’। তবে আমার সন্দেহ তারা তা করবে হয়তোবা তারা যথেষ্ট বুদ্ধিমান নয়।’
এদিকে ট্রাম্পের এই হুংকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ নতুন করে শুরু হলে সাবমেরিন বা সমুদ্রের তলদেশের কেবলের ওপর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটন যেন ‘আগুন নিয়ে না খেলে’। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশটির সমুদ্রতলদেশের কেবলগুলোতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তারা চাইলে সেগুলো খুব সহজেই ধ্বংস করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। সূত্র: এনডিটিভি
আজহার/
আরও পড়ুন
বিশ্বের ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, চরম আবাসন সংকট, কম মজুরি এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দের অভাব এসবের প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে রাজপথে নেমেছেন লাখো সাধারণ মানুষ। ফ্রান্সসহ বেশ কিছু দেশে এই বিক্ষোভ যখন তীব্র রূপ নিচ্ছে, তখনই সামনে এসেছে বিভিন্ন দেশের সরকারের বিশাল ঋণের বোঝা ও সুদ পরিশোধের গ্লানি। ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসেই বিশ্বজুড়ে সরকার, পরিবার ও করপোরেট খাতের মোট ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ঋণের এই আকাশচুম্বী সুদ মেটাতেই এখন ফুরিয়ে যাচ্ছে সিংহভাগ বাজেট। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পেনশনের মতো জনকল্যাণমূলক খাতগুলোতে ব্যয়ের সুযোগ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিচ্ছে। বিশ্বের ঋণের বোঝা কতটা বেড়েছে, কোন কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত এবং সুদ বাবদ কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা তুলে ধরা হলো।
সরকারগুলো কীভাবে অর্থ ধার করে?
সরকারও মানুষের মতো ঋণ নেয়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার বদলে সরকার বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে। এর বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের সুদ দেয় এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ক্ষেত্রে সরকার এক দশক পর ঋণ পরিশোধ করে। এই বন্ডের ইল্ড বা মুনাফার হার থেকে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ধারণা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হলে কী হয়?
বন্ডের দাম কমলে সুদের হার বাড়ে। ফলে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও বেড়ে যায়। এতে সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সড়কের মতো খাতে বরাদ্দ কমানোর চাপ তৈরি হয়। ২০১০-১২ সালের ইউরো জোন ঋণসংকটে গ্রিস, ইতালি ও স্পেনের ঋণ গ্রহণের খরচ বেড়েছিল। বর্তমানে ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি ঋণের সুদের হার প্রায় ৫ শতাংশ, যেখানে জার্মানির ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ঋণসংকটে থাকা ইতালি ও গ্রিসের চেয়েও এখন ফ্রান্সের ঋণ গ্রহণের খরচ বেশি।
কোন দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত?
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এর পর রয়েছে চীন, যার ঋণ ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। জাপানের ঋণ ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির জিডিপির ১৯৯ শতাংশ– প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮.৫ শতাংশ। ঋণের পরিমাণে দেশটি বিশ্বে পঞ্চম। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের ঋণ জিডিপির ১২১.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, জার্মানির সরকারি ঋণ ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ।
ট্রিলিয়ন ডলারের সুদ বিল
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বে সরকার, পরিবার ও কোম্পানির মোট ঋণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স (আইআইএফ)। মাথাপিছু হিসাবে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার। এদিকে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো গত এক বছরে সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এই ব্যয় প্রতিরক্ষা খাতে বিশ্বের মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি। ঋণের সুদ মেটাতে সরকারের ব্যয় বাড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পেনশনের মতো খাতে বরাদ্দ কমতে পারে। পাশাপাশি বাড়তে পারে কর ও ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার। সূত্র: আল-জাজিরা
