খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সাজা ঘোষণার ঠিক আগেই বলে বসলেন, উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চান, বিজেপির টিকিটে। তৎক্ষণাৎ দোষীর জামিন মঞ্জুর করে দিল উচ্চ আদালত। কেন? আদালত মনে করছে, একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দোষী সাব্যস্ত হলেও তাঁর সাজা ঘোষণা কিছুদিনের জন্য স্থগিত করা যেতেই পারে।
এলাহাবাদ হাই কোর্টের এই দায় নিয়ে জোর চর্চা দেশজুড়ে। জানা গিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তির নাম নন্দলাল ওরফে বাবলু রাই। ২০১৭ সালে একটি খুনের ঘটনায় সে অভিযুক্ত ছিল। রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম সদস্য প্রমোদ কুমার নিগমের হত্যায় বাবলুর নাম জড়ায়। যদিও এফআইআরে বাবলুর নাম ছিল না। হত্যাকাণ্ডের ১৭ দিন পরে বাবলু যোগ মেলে। তারপর দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত। গতবছর বারাণসীর সেশন কোর্ট বাবলুকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বাবলু।
বিচারপতি সিদ্ধার্থ এবং বিচারপতি বিনয় কুমার দ্বিবেদীর বেঞ্চে শুনানির আগেই বাবলু আবেদন করেন, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন। দলীয় টিকিটে বা নির্দল প্রার্থী হিসাবে তিনি নামতে চান ভোটের ময়দানে। তাই জামিন দেওয়া হোক। সেই আবেদন শোনামাত্র বাবলুর জামিন মঞ্জুর করে দিয়েছে এলাহাবাদ হাই কোর্ট। এই রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশের উল্লেখ করেছে উচ্চ আদালত।
অতীতে একাধিক জনপ্রতিনিধিকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ কিছু দায়িত্ব রয়েছে নিজের এলাকার প্রতি। তাই তাঁদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থাকা উচিত। এই রায় উল্লেখ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের মত, সাধারণ মানুষের যেমন জীবিকা উপার্জনের অধিকারটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেরকমই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছে নির্বাচনে লড়া একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত দোষী সাব্যস্ত করা এবং সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়া স্থগিত। সম্ভবত আগামী বছর নির্বাচনের পর ফের শুরু হবে বিচার।
