কালবেলা · আন্তর্জাতিক
সন্তান সমুদ্র সৈকতে ঢেউয়ের ধাক্কায় বিপদে, রিল বানাতে ব্যস্ত মা-বাবা
২১/১০/২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য রিল তৈরিতে ব্যস্ত এক দম্পতির অসতর্কতায় সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে বিপদে পড়ে তাদের ছোট্ট মেয়ে। শিশুটি ঢেউয়ের ধাক্কায় বালুর ওপর পড়ে যাওয়ার পরও ক্যামেরার সামনে ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাদের।
পরে এক দর্শনার্থী শিশুটিকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে আসেন এবং তাকে নিরাপদে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রের তীরে ঢেউয়ের কাছাকাছি হাঁটছিলেন ওই দম্পতি। এ সময় নারীটি তাদের ছোট্ট মেয়ের হাত ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি তার হাত থেকে ছুটে বালুর ওপর পড়ে যায়।
এরপর নারীটিকে একবার পেছনে তাকাতে দেখা গেলেও পরে তিনি আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে, পুরুষটি সেলফি স্টিক দিয়ে ভিডিও ধারণ চালিয়ে যান। এ সময় পেছনে শিশুটিকে ঢেউয়ের ধাক্কায় এদিক-সেদিক সরে যেতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে এক দর্শনার্থীর নজরে আসে বিষয়টি। তিনি দ্রুত শিশুটির কাছে গিয়ে তার হাত ধরে নিরাপদ জায়গার দিকে নিয়ে যান এবং কী ঘটেছে, তা বোঝাতে চিৎকার করে বাবা-মায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়
মারিয়াম নামের এক এক্স ব্যবহারকারী ভিডিওটি নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। তিনি জানান, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রতীরে বেড়াতে গিয়ে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তার অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে তাদের ছোট্ট মেয়েটি পানির মধ্যে বিপদে পড়লেও তারা বিষয়টি খেয়াল করেননি। পরে এক দর্শনার্থী এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রতি মানুষের বাড়তি আসক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মারিয়াম। তার প্রশ্ন, রিল বানানো কি এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে মানুষ নিজের সন্তানের প্রতিও নজর দিতে ভুলে যাচ্ছে?
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী দম্পতির আচরণের সমালোচনা করেন। তাদের মতে, সন্তানের নিরাপত্তার চেয়ে ভিডিও তৈরিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, কনটেন্ট তৈরির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে নিজের পরিবার ও আশপাশের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। আরেকজনের মতে, দম্পতির আচরণে মনে হয়েছে, তারা সন্তানের চেয়ে ভিডিওটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অন্য এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, একটি রিল কয়েক মিনিটের হলেও শিশুর জীবন নিয়ে দ্বিতীয়বার সুযোগ নেওয়া যায় না। সময়মতো এক পথচারী শিশুটিকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এসেছিলেন বলেই বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনাটি আবারও শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির সময় বাস্তব জীবনের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মূল প্রতিবেদনে যান ↗