বিশেষ প্রতিবেদক: এক সময়ে শহর ও শহরতলী এলাকায় মহল্লা ভিত্তিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ছিলো শক্তিশালী। গ্রামের প্রায় সব সমস্যাই মিটিয়ে ফেলতে পারঙ্গম ছিলেন পঞ্চায়েত নেতারা। এতে মানুষকে থানা-পুলিশ করতে হয়নি খুব একটা। খরচ না করেই সমস্যা মিটে যাওয়ায় লোকজন খুশী থাকতো। সচেতন মহল বলছেন, বর্তমানে সমাজের অবক্ষয় রোধে শক্তিশালী পঞ্চায়েত গঠনে জোর দিতে হবে। তবে তা যেন দলীয় মোড়কে না হয় সেদিক শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনও পঞ্চায়েত রয়েছে তবে আগের মতো কার্যকর নয় বলে জানা গেছে। প্রবীন ব্যক্তিরা জানান, অতীতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শক্তিশালী ছিলো এবং মহল্লাবাসী এর বাইরে যেতে পারতো না। যা কিছু সুখ-দুঃখ সব পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ভাগাভাগি করে এলাকায় বাস করতো মানুষ। এখন সব কিছুতে দলীয় প্রভাব ভর করে। প্রবীণ এক সমাজ নেতা জানান, স্বাধীনতার পর থেকেই দলীয় প্রভাব ধীরে ধীরে সব কিছুতে বাড়তে থাকে, এখন তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। পঞ্চায়েত কমিটি থেকে শুুরু করে স্কুল কমিটি, মসজিদ-মন্দির কমিটিতেও দলের নেতাদের থাকতেই হবে এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছে। যার কারনে সমাজের অনেক ভালো মানুষ এসবে পা বাড়ায় না।
এ নিয়ে কথা হয় নাগরিক সংগঠন আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র সভাপতি নূর উদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে। তিনি জানান, এক সময়ে প্রতি মহল্লায় মাতবর, সরদার, প্রধান নির্বাচিত করা হতো। ওয়ারিশ সূত্রেও তা করা হতো তবে কোন সমাজপতির সন্তান যদি উপযুক্ত না হতো তবে মহল্লাবাসী নতুন কাউকে নির্বাচিত করতো। তখন সমাজ ব্যবস্থা ছিলো এক রকম এখন আরেক রকম। এখন সব কিছুতে দলীয় প্রভাব বিস্তার থাকায় দলের বাইরের কেউ সমাজকর্মে যেতে চায় না।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ওয়ার্ড ভিত্তিক অনেক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয় কোন না কোন দলের সমর্থনে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মহল্লার সব কিছুতে পেশী শক্তির ব্যবহার করে। যদিও এলাকার প্রবীণদের তারা সুবিধামতো সময়ে ডাকে তবে দলীয় মোড়কে নিজেকে না জড়াতে সে ডাকে সবাই সাড়া দেয় না।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সহ সভাপতি রফিউর রাব্বির মতে, শক্তিশালী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নেই বলেই সমাজে কিশোর গ্যাং, মাদক সহ নানা অপরাধ বেড়ে গেছে। তবে এখনো পঞ্চায়েত ব্যবস্থা করা যায় এবং তা করলে মানুষ উপকৃত হবে। তবে দলীয় প্রভাব না থাকলে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
পাড়া-মহল্লায় পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েতের আদলে কমিটি থাকলে মানুষ নানা সুবিধা ভোগ করতে পারে। কোন শালিশ নিয়ে তাদের থানা- আদালতে ছুটতে হয় না। এতে যেমন টাকা খরচ হয় না তেমনি সময়ও নষ্ট হয় না। আবার মহল্লার নানা কর্মকান্ডও এ কমিটির মাধ্যমে হতে পারে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ ভিত্তিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের সম্মানি পঞ্চায়েতভুক্ত বাসিন্দারা দেয়। আবার সমস্যা সমাধানেও কাজ করে তারা। এছাড়া ঈদুল আজহার সময়ে কোরবানীর মাংস মসজিদ থেে পঞ্চায়েতের তালিকা অনুযায়ী বন্টন হয়। এতে করে কেউ কোরবানী না দিলেও খুব সহজে কোরবানীর মাংস পেয়ে যায়। এলাকায় কমিটি বা পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থাকলে নানা কর্মকান্ডও সহজে করা যায়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ‘গাবতলী সোসাইটি’ নামক ৬৪ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। এ মহল্লার সব বাড়িওয়ালা এ কমিটিতে জড়িত। প্রতি মাসের সদস্য ফি থেকে এ কমিটি নিয়মিত রাস্তা ঝাড়ু, ড্রেন পরিস্কার এবং পাহাড়ার ব্যবস্থা করেছে।
এ নিয়ে কথা হয় গাবতলী সোসাইটির সভাপতি সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবনের সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের মহল্লার সব বাড়িওয়ালা এক কমিটিতে থাকায় একটা ঐক্য তৈরী হয়েছে। এতে যে কোন সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়। তার মতে, মানুষ সহজে থানা পুলিশ কিংবা আদালতে যেতে চায় না। কারন সেখানে গেলে খরচ হয়, ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই গ্রামে শক্তিশালী পঞ্চায়েত ব্যবস্থা থাকলে মানুষ উপকৃত হয় এবং অনেক অপরাধ দম হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন মনে করেন, সরকারের উচিত পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেয়া।
The post পঞ্চায়েত শক্তিশালী হলে অপকর্ম কমবে appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
