নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ককরোচদের আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। সংহতি জানিয়েছেন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবিতে এ বারের আন্দোলনেও। তবে এ বারের আন্দোলনে সরাসরি যুক্ত থাকেননি তিনি। এ বার লাদাখের সেই সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক ফের সুর চড়ালেন প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারের পক্ষে। তাঁর মতে, প্রতিবাদ বিক্ষোভের উদ্দেশ্যই হল সরকারকে আরও ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করা। সম্প্রতি সিজেপি-র বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা যে ভাবে প্রশ্নের মুখে পড়েছে, তাতে ওয়াংচুকের মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শনিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের গুরুত্বের কথা ব্যাখ্যা করেন লাদাখের পরিবেশকর্মী তথা সমাজসৈনিক। তাঁর মতে, সরকারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি উল্লেখ্যযোগ্য মাধ্যম হতে পারে প্রতিবাদ। কথা প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পড়শি দেশগুলির প্রসঙ্গ টেনে ওয়াংচুক বলেন, “প্রতিবাদের সুযোগ না দিলে কী ঘটতে পারে, তা এই ঘটনাগুলি থেকেই স্পষ্ট।” তাঁর সংযোজন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার নিজে থেকেই প্রতিবাদের অনুমতি দেয়— এমনকি পার্লামেন্টের সামনেও (অনুমতি) দেওয়া হয়।”
রাজধানীতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গে ওয়াংচুকের দাবি, বিভিন্ন দেশে পার্লামেন্টের সামনে কোনও এলাকাকে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ প্রসঙ্গে ব্রিটেন, নরওয়ে এবং সুইডেনে পার্লামেন্টের কাছাকাছি চত্বরে বিক্ষোভের অনুমতির কথা তুলে ধরেন তিনি। তার সঙ্গে দিল্লির তুলনা টেনে ওয়াংচুক বলেন, “ভারতে প্রতিবাদস্থল সংসদ ভবন থেকে অনেক দূরে। এমনকি যন্তর মন্তরও (যা বর্তমানে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে) সংসদ থেকে অনেকটা দূরে।” সমাজসৈনিকের মতে, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হল সরকারের কাছে ‘ফিডব্যাক’ পাওয়ার একটি মাধ্যম। সরকার এটিকে গুরুত্ব দিলে এটি সরকারকে আরও ভাল ভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। সম্প্রতি তাদের বেশ কিছু কর্মসূচিতে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। আন্দোলনকারীরা জমায়েত শুরু করতেই শুরু হয়ে যায় পুলিশি ধরপাকড়। আটক করা হয় আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবদের। এ অবস্থায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারের সমর্থনে ওয়াংচুকের মন্তব্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
