কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কায়ুকখালী পাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ পুড়ে গেছে। এতে ৮ থেকে ১০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে, এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কায়ুকখালী পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. কামরুজ্জামান সুমন জানান, সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৯টা ৫১ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের প্রচেষ্টায় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে বাড়ির মালিক আবদুস সালামের ১৮টি সেমিপাকা বসতকক্ষ ও একটি নেলকুনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতকক্ষগুলো পাশাপাশি থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজনও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় অনেক পরিবার ঘর থেকে প্রয়োজনীয় মালামাল বের করার সুযোগ পাননি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনে তাদের কাপড়চোপড়, রান্নার সামগ্রী, বিছানাপত্র, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা এসব পরিবার এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বসতঘর ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে অনেক পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি
জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
