বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশে তীব্র তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন খরচ প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিদেশি রপ্তানিমুখী বাণিজ্যের চরম ক্ষতি করছে। দেশকে নজিরবিহীনভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং সর্বত্র সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চলছে। তেলের দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে।
রোববার দুপুর ২টায় সিলেটের জকিগঞ্জ পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আজ দেশে তেল নেই, গ্যাস নেই, একের পর এক শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে একসময় মারাত্মক হাহাকার তৈরি হবে।
জ্বালানি সংকটে দেশের উৎপাদনমুখী ও রপ্তানিমুখী শিল্প খাত মারাত্মক চাপে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প। এ খাতের উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হয়। অথচ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, বিপরীতে উৎপাদনের পরিমাণ কমছে। এতে বিশ্ববাজারে আমাদের রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় বেশি দিন টিকে থাকা যাবে না। জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য কেবল এক দলের জায়গায় আরেক দলের ক্ষমতায় বসা ছিল না; শহীদদের স্বপ্ন ছিল ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
গণভোটের রায় প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, একই দিনে একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ফলাফলও ঘোষণা করা হয়েছে। গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাঙালির একটা নিয়ম আছে—ধরে ধরে ধরে না, কিন্তু একবার ধরলে ছাড়ে না।
সমাবেশে আগামী জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে সিলেট জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাবের নাম ঘোষণা করেন মাওলানা মামুনুল হক।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শায়খ মোস্তফা আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আফসার জিহাদির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল কারীম জালালী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতা উল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ মহসিনুল হাসান ও সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইকবাল হুসাইনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এ সময় সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।