সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ঘটনার জেরে ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ৫১টি ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সৌদিগামী যাত্রীরা। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর ৫ হাজার ৪১৮ জন যাত্রী বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব এ তথ্য জানান।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ১২টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুটি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি ফ্লাইট রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ৩৯টি। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ১৬টি, সালাম এয়ারের তিনটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের নয়টি, কাতার এয়ারওয়েজের পাঁচটি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের পাঁচটি ফ্লাইট রয়েছে।
গত শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। আহত হন ৩০৮ জন।
নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত রোববার আবারও বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক পাকিস্তানি প্রবাসী নিহত হন এবং আহত হন আরও ১১ জন।
পরপর হামলার ঘটনায় সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
