লালন শাহের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও জীবন দর্শন ধারণ করাই হচ্ছে আজকের দিনে প্রকৃত শিক্ষার সার্থকতা। মানুষকে ধনী-দরিদ্র, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শনের পরিচয়ে আলাদা না করে মানুষ হিসেবে সম্মান জানানোই লালনের মূল শিক্ষা। লালনের আদর্শকে জীবন পরিবর্তনের অনুসঙ্গ করতে হবে।
কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বিজ্ঞাপন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, লালন সাঁই ছিলেন একজন আধ্যাত্মিক সেবক। যে সময়ে সমাজে জাতপাত ও ধনী-দরিদ্রের তীব্র ভেদাভেদ ছিল, সে সময়ে তিনি অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবপ্রেমের বাণী ছড়িয়েছেন। পীর, মাশায়েখ ও সাধু-দরবেশদের দর্শনেই এদেশের আবহমান সংস্কৃতি ও ইতিহাস সমৃদ্ধ হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি শিক্ষা ও জীবনের পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কেবল সারা বছর লালনের গান শুনে বিনোদন লাভ করলেই চলবে না; লালনের আদর্শকে জীবন পরিবর্তনের অনুসঙ্গ করতে হবে। জানা বিষয়টি যদি আমাদের জীবনযাপনকে স্পর্শ না করে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন না আনে, তবে এ জাতীয় আয়োজন নিরর্থক।’
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও যোগ করেন, একজন প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীর শিক্ষা সেখানেই, যেখানে সে মানুষকে মানুষ হিসেবে চিনতে ও শ্রদ্ধা করতে শেখে।
বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী লালন আখড়ার উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাখাল সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গ শুরু হয়। রোববার দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাধুসঙ্গের মূল আনুষ্ঠানিকতা। তবে সোমবার তিন দিনব্যাপী তিরোধান দিবসের তৃতীয় দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা চলছে।
খন্দকার আল-মামুন/এসআর/এএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
