বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমানে চরম থমথমে ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের অভিজাত জুহু এলাকায় জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা টাইগার শ্রফের বিলাসবহুল গাড়িতে দুষ্কৃতীদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক ও রোমহর্ষক হামলার পর থেকেই গোটা মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল এবং বিনোদন দুনিয়ায় তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে সরাসরি ফোন করে টাইগার শ্রফের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ কমিশনার দেবেন ভারতীকে দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। টাইগারকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সরকার সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে রয়েছে এবং অপরাধীদের খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে। ইতিমধ্যে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং এই হামলার দায় স্বীকার করায় উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় দুষ্কৃতীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, মুম্বই পুলিশের কমিশনারের নেতৃত্বে একাধিক বিশেষ তদন্তকারী দল মাঠে নেমেছে। নব্বইয়ের দশকের গ্যাং ওয়ার যেভাবে পুলিশ দমন করেছিল, এবারও সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করলে অপরাধীদের একই ভাষায় কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এদিকে, শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুম্বইয়ের রাস্তায় অপরাধীদের মনে আইনের কোনো ভয় নেই এবং সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
চলমান এই থমথমে পরিস্থিতিতে অভিনেতা টাইগার শ্রফের বাসভবন এবং জুহু সংলগ্ন পুরো এলাকা কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে। মুম্বই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
