বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভক্ত, পূজারি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
পূজামণ্ডপ সমূহে ঢাক-ঢোল,শঙ্খ বাজিয়ে,উলুধ্বনি ও ফুল দিয়ে ভক্ত ও পূজারীরা এমরান সালেহ প্রিন্সকে বরণ করে নেয়। এসময় তিনি সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
উপস্থিত ভক্ত ও পূজারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার নিজের পক্ষ থেকে সকলকে দূর্গা পূজার শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ ফ্যাসিবাদ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে স্মরণকালের সর্বোচ্চসংখ্যক মন্ডপে এবছর মহাসমারোহে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার ফল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশব্যাপী এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে । তিনি বলেন, শুধু রাজধানী তে নয়, জেলা পর্যায়ে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে যাওয়াও একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আজ প্রাণ খুলে আনন্দ করছেন, উৎসব উদযাপন করছেন, স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম করছেন। বিএনপি সরকার নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে সেই আনন্দমুখর ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করেছে। তিনি বলেন, এসব ধর্মীয় স্বাধীনতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সব ধর্মের মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, "বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। এই সম্প্রীতি, ঐক্য ও মেলবন্ধন অটুট ও শক্তিশালী করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। আমাদের সকলের উচিত, প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখে দেশ পুনর্গঠনে তাঁকে সহযোগিতা করা। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসাহ ও নির্দেশনায় এবার মহা সমারোহে পূজা উদযাপন হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।"
জামায়াত ও এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এবারের দুর্গাপূজায় সহযোগিতায় তাদেরকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় নাই। এই নির্লিপ্ততা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে আবারো প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জামায়াত তাদের কর্মকাণ্ডে বার বার সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে , এবার এনসিপিও তাদের জোটের শীর্ষ দলের নীতি অবলম্বন করেছে কী না তা তাদের পরিস্কার করা উচিত। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার, উৎসব ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানো রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। শুধু মুখে সম্প্রীতির কথা বললে হবে না, বাস্তব আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মিজানুর রহমান, উত্তম কুমার বাবুল, আসাদুজ্জামান আসিফ, নাঈমুর আরেফীন পাপন, আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মোতালেব , এম আর আল আমিন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।