নিজস্ব প্রতিবেদক:
পুনর্মূল্যায়নের পর পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেছে গ্রামীণ কল্যাণ।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত বা মালিকানাধীন এই সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি হাইকোর্টের পৃথক দুটি রিট খারিজের রায়ের বিরুদ্ধে এই আপিল আবেদন জমা দিয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল দুটি করা হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। আপিল বিভাগের সূচি অনুযায়ী, আপিল দুটি শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালতের কার্যতালিকার ৯৯ ও ১০০ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।
হাইকোর্টের রায় ও পর্যবেক্ষণের মূল বিষয়সমূহ
রিট খারিজ ও রায় প্রকাশ: গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবিকে বৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে নির্দেশ জারি করেন। পরবর্তীতে ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট বিচারকদের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
'কর ফাঁকির ধ্রুপদি উদাহরণ': পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ কল্যাণের এই মামলাটি কর ফাঁকির চেষ্টার একটি ‘ধ্রুপদি উদাহরণ’। প্রতিষ্ঠানটি একটি নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া আইনি বিষয় দীর্ঘায়িত করে এতদিন ধরে সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত রাখার চেষ্টা চালিয়েছে।
আদালতের বক্তব্য: ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর দাবির বিরুদ্ধে রিট করলেও গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ করবর্ষের জন্য একই ধরনের আয়কর আগেই পরিশোধ করেছিল। এমনকি এনবিআরের করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালে করা রেফারেন্স মামলাও প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেয়। আদালত পর্যবেক্ষণ দেন যে, প্রতিষ্ঠানটি বারবার নিজের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।
এ জাতীয় আরো খবর..
