ছেলে থেকে মেয়ে হয়েও শটের জোর কমেনি অনয়া বাঙ্গারের। অনুশীলনে ছেলেদের বলে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন তিনি। সেই ভিডিয়ো নিজেই পোস্ট করলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা।
মুম্বইয়ের ক্রস ময়দানে অনুশীলন করতে গিয়েছিলেন অনয়া। তখন সেখানে অনুশীলন করছিলেন সরফরাজ় খান ও তাঁর ভাই মুশির খান। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান অনয়া। তার পর নিজের অনুশীলন শুরু করেন তিনি।
নেটে ব্যাট করছিলেন অনয়া। উল্টো দিকে ছিলেন পুরুষ বোলারেরা। শুরুতে কয়েকটি বল ডিফেন্ড করলেও তার পর হাত খোলেন অনয়া। একের পর এক বড় শট মারেন। পেসার, স্পিনার সকলের বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি। বোঝা যাচ্ছিল, মাঠে নামতে পুরোপুরি তৈরি তিনি।
লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছেন অনয়া। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড তাঁকে খেলার অনুমতি দেয়নি। দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। মহিলাদের বিগ ব্যাশে তাঁকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনয়া চান, ভারতের হয়ে খেলতে।
অনয়া জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন, ভারতীয় বোর্ডও এক দিন তাঁকে খেলার অনুমতি দেবে। একটি সাক্ষাৎকারে অনয়া বলেন, “আমি আশা করব, বিসিসিআই বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। এক দিন ভারতের মহিলা দলে খেলার সুযোগ পাব। এক দিন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলব। আমি দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চাই। সেটাই আমার লক্ষ্য।”
এই যাত্রা যে খুব একটা সহজ ছিল না, তা জানিয়েছেন অনয়া। প্রতি পদক্ষেপে বাধা এসেছে। অনয়া বলেন, “খুব কঠিন ছিল। অনেক বাধা সামলেছি। শুধু বাইরের মানুষ নয়, পরিবারের মধ্যেও অনেক বিরোধিতা সহ্য করতে হয়েছে। নামমাত্র সমর্থন পেয়েছি। কিন্তু থামিনি।”
ছেলে থেকে মেয়ে হওয়ার যে প্রক্রিয়া, তার খরচ পুরোটা তাঁকেই বহন করতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অনয়া। তিনি বলেন, “একটা সময় এমন গিয়েছে যে লন্ডনে অন্যের সঙ্গে ঘর ভাগ করে থেকেছি। প্রায় পাঁচ মাস সে ভাবে কাটাতে হয়েছে। একটা সময় ঠিক করে নিয়েছিলাম, সমাজমাধ্যমে নিজের কথা বলব। সেটাই করেছি। কয়েকটা বিজ্ঞাপনের সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই টাকা থেকে অস্ত্রোপচার করিয়েছি। পুরোটা নিজের টাকায় করেছি।”
অবশ্য লিঙ্গ পরিবর্তনের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও অনয়াকে খেলার অনুমতি দেয়নি। বোর্ডের বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন তিনি। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকারে অনয়া বলেছেন, “বরাবর আমার প্রতি নীরব থেকেছে বোর্ড। দেখে প্রচণ্ড হতাশ হয়েছি। মন ভেঙে গিয়েছে। আমি জানতাম রূপান্তরিত হলে ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যেতে হবে। আশা করি এ বার বোর্ড আমাদের মতো ক্রিকেটারদের খেলানো নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করবে। কারণ আমিই এ ব্যাপারে ভারতে প্রথম।”
অনয়ার সংযোজন, “সুযোগ পেলে দলের সদস্য হতে রাজি। নিজের জ্ঞান এবং গোটা যাত্রাপথের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে চাই। দেশ এবং মহিলাদের খেলাধুলোর উন্নতির জন্য যা যা দরকার তা করতে চাই।”
