ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ফার্নিচার ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া (৫০)-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়। রোববার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য থানায় আনা হলে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাকে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। ফেরার পথে ইয়াসিন মিয়া তাকে নিজের ফার্নিচারের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। পরে হাতে ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের লোকজন ও স্থানীয় মাতব্বরেরা বৈঠকে বসেন। সেখানে ১২ জন মাতব্বরকে নিয়ে বিচার কমিটি গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি এতে রাজি না হয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানান। এরপর ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন ও সহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ঘটনার তিনদিন পর শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে দুই পক্ষের লোকজন ও মাতব্বরদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলাম। ঘটনা সত্য হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য।’
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
