দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা বাড়ছে। আর মহিলাদের মধ্যে এই হার বেশি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সমীক্ষায় এমনই উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাত দেখা গিয়েছে, ১৫-৪৯ বছর বয়সিদের মধ্যে স্থূলতার হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে রজোনিবৃত্তি পর্ব চলছে, এমন মহিলাদের শরীরে মেদ জমছে সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে হরমোনের গোলমালও হচ্ছে। ফলে চল্লিশের পরে এই মেদ ঝরানোও প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে উঠছে। এই সমস্যার সমাধানেই ডেনমার্কের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা নোভো নরডিস্ক মহিলাদের জন্য একটি নতুন ওষুধ আনছে। এই ওষুধটি সঠিক ডোজ়ে নিলে মহিলাদের ওজন প্রায় ২৫ শতাংশ অবধি কমতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
দেশের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন’-এর তথ্য বলছে, মহিলাদের শরীরের নিম্নাংশে মেদ জমছে বেশি। পা, ঊরু, তলপেট, কোমর, নিতম্বে চর্বির পরিমাণ বেশি। আর তা জমছে সামঞ্জস্যহীন ভাবেই। এর নেপথ্যে যেমন ইস্ট্রোজেন হরমোনের কারসাজি রেয়েছে, তেমনই জিনগত কারণও রয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘লিপেডেমা’। এ ক্ষেত্রে শরীরের নিম্নাংশেই ত্বকের নীচে চর্বির স্তর জমতে শুরু করে। কারও কোমর, নিতম্ব ও তলপেটে বেশি মেদ জমে যায়, কারও আবার ঊরুতে। এমন মেদ কমানো সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গেলে আরও বেশি মেদ জমতে থাকে শরীরে। ফোলা ভাব আসে চেহারায়। কারও চামড়া ঝুলে যায়, কারও গলা-থুতনি-গালেও অতিরিক্ত মেদ জমতে থাকে। এমন মেদ কমানোর জন্যই ওষুধ তৈরি করেছে ডেনমার্কের সংস্থাটি। ওষুধটির নাম ‘ক্যাগরিসেমা’। এটি নিতে হবে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে।
ওজ়েম্পিক বা মাউনজ়েরোর মতো ওজন কমানোর ওষুধের থেকে এটি খানিকটা আলাদা। এই ওষুধগুলি জিএলপি-১ হরমোনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ওজন কমায়। তবে ‘ক্যাগরিসেমা’ জিএলপি-১ হরমোনকে কব্জা তো করবেই, পাশাপাশি মহিলাদের শরীরের অন্যান্য হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করবে। ফলে ওজন কমবে সমানুপাতিক ভাবে এবং হরমোনের গোলমালজনিত রোগগুলিও সেরে যাবে বলে দাবি। রজোনিবৃত্তি পর্ব এগিয়ে এসেছে বা রজোনিবৃত্তি পর্বের পরবর্তী সময়ে মহিলাদের ওজন বৃদ্ধি, হরমোনের সমস্যার সমাধানও করতে পারবে ওষুধটি, দাবি এমনই। এর ক্লিনিকাল ট্রায়ালে দেখা গিয়েছে, মহিলাদের ওজন ২৫-২৬ শতাংশ কমাতে পারছে ওষুধটি।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম রয়েছে অথবা রজোনিবৃত্তি পর্বে ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গিয়েছে, এমন মহিলারা ওষুধটি নিতে পারেন। তবে যে কোনও ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নেওয়া উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে। তাই এমন ওষুধের ডোজ় নিতে হলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
