শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরীর বিমান চত্বর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থাপনায় রং করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন রংমিস্ত্রিরা। কেউ তুলির আঁচড়ে পুরোনো স্থাপনাকে নতুন রূপ দিচ্ছেন, আবার কেউ সড়কসংলগ্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করছেন। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রংমিস্ত্রি আমিনুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে নগরীকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তুলছি। কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী এসে আমাদের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী দেখুন।”
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। নগরীর সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রং করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার, বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই রাজশাহীতে প্রথম সফর। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গৌরবের বিষয়। তাঁকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি, তাঁর এই সফর রাজশাহীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজও জোরদার করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে রাজশালীবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে চান তাঁরা।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী আগমন তাঁদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাঁকে বরণ করে নিতে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন নগরীর মাধ্যমে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে চান তাঁরা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। রাজশাহীর মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও এ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাঁকে একনজর দেখার জন্য রাজশালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। এর মধ্যে সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রং করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রাজশালীবাসীর মধ্যে আনন্দ, আবেগ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। নগরীর সাজসজ্জা ও মানুষের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে সেই উৎসাহ-উদ্দীপনার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে অসংখ্য মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে নগরীর সড়ক, স্থাপনা ও পরিবেশ সাজানোর কর্মযজ্ঞে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এখন অপেক্ষা ২০ অক্টোবরের, যেদিন উষ্ণ অভ্যর্থনা ও বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজশাহী।
The post প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বর্ণিল সাজে রাজশাহী, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি appeared first on ভোরের চেতনা.
