চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার আশিয়া ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত দুটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথটি তিনটি সাঁকোয় বন্দি হয়ে আছে। বছরের ছয় মাস এখানে হাঁটুপানি জমে থাকে। এ দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকাবাসী পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ও আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী পিঙ্গলা শেখপাড়া এলাকায় চলাচলের পথে তিনটি সাঁকো থাকায় মানুষের যাতায়াতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর আগে খালের পানিতে সড়কপথটি তলিয়ে গেলে স্থানীয়রা সাঁকো নির্মাণ করেন। এরপর থেকে জনপ্রতিনিধিরা আসা-যাওয়া করলেও ভাগ্য বদলায়নি ওই এলাকার ৩০ পরিবারের। স্থানীয়রা জানান, সাঁকোগুলোর আশপাশে ৩০টি পরিবারের বসবাস। এ ছাড়া আশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহৎ একটি অংশের মানুষও এসব সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় শাহাদাত হোসেন জানান, আট বছর আগে ওই সাঁকো দিয়ে চলাচলের সময় পড়ে গিয়ে মো. সেলিম নামে এক যুবক পঙ্গু হয়ে যান। বর্তমানে তিনি চাষাবাদের কাজ করছেন। দুর্ভোগের কথা কাশিয়াইশ ও আশিয়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, পিঙ্গলা শেখপাড়ার এ সড়ক দিয়ে পিঙ্গলা আহমদিয়া কাদেরিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা, পিঙ্গলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হযরত শেখ মুনছুর আউলিয়া জামে মসজিদ ও নূর উদ্দীন শাহ জামে মসজিদে যাতায়াত করেন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় আলমগীর ও মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা এখানে এসে বারবার আশ্বাস দিয়ে যান, কিন্তু তাদের দুর্ভোগের অবসান হয় না। দুই ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় এখানে কেউ নজর দেন না। প্রায় ১৫ বছর ধরে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও তা দেখার কেউ নেই।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, “সাঁকোটি যে সড়কে অবস্থিত, সেটি এলজিইডির আইডিভুক্ত সড়ক নয়। তাই আমাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পেও এর পরিকল্পনা নেই। সড়কটি আইডিভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছি। আইডিভুক্ত হলে পরবর্তী সময়ে চলমান যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির উন্নয়ন বা সংস্কার করা হবে।”
এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, “স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আবেদন পাইনি। আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমএইচ
-46d587.jpg&w=1440&q=75)