গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন এবং প্রায় লক্ষ লক্ষ পথচারী মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু সড়ক জুড়ে অবৈধ দোকান বসিয়ে ও থ্রি-হুইলারের তাণ্ডবে সেখানে পথচারী চলাচল এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কসহ ফুটপাত দখল করে তিন থেকে চার সারিতে অবৈধ কয়েক শত দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে অটোরিকশা, আর অন্য পাশে বাজার বসিয়েছেন হকাররা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২৮০ ফুট প্রস্থের এই সড়কের বড় অংশ দখল হয়ে থাকায় কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলের জন্য মাত্র ১০ থেকে ২০ ফুট জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে তীব্র যানজটের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
মহাসড়কের দুই পাশে ২০টির বেশি স্কুল-কলেজ এবং শতাধিক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে। ফুটপাত পুরোপুরি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকেরা।
সফিপুর মডেল স্কুলের এক দশম শ্রেণির ছাত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় দোকানদারদের ধাক্কা সহ্য করে বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। বাস-ট্রাকের নিচে পড়ার সার্বক্ষণিক ভয় নিয়ে চলাচলের কারণে প্রায়দিনই স্কুলে পৌঁছাতে দেরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারা দিনই এখানে যানজট লেগে থাকলেও বিষয়টি না দেখার ভান করে থাকছে পুলিশ।
সফিপুর মহাসড়কের এই ভোগান্তি প্রসঙ্গে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, ফুটপাত দখলের বিষয়টি তাঁর নজরে এসেছে। এটি জাতীয় মহাসড়ক হওয়ায় এখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা বরদাশত করা হবে না। ইতিমধ্যে হাইওয়ে পুলিশ ও থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশের এসপি জানান, মহাসড়কসহ ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে দ্রুত সড়কটি যান ওজন চলাচলের উপযোগী করবে।
উপজেলার সবচেয়েতন মহল মনে করেন হাইওয়ে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যান চলাচলসহ পথচারীদের যাতায়াতের সমস্যার সমাধান করবে এমনটাই প্রত্যাশা তারা।
