পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশের গুলিতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এ তথ্য জানিয়েছে। প্রদেশটিতে ইমরান খানের সমর্থকদের বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার প্রদেশটিতে জারি করা জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসনের পক্ষে সংসদের অনুমোদনও পেয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া পিটিআইয়ের
শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে ইমরান খানের মুক্তির দাবির পাশাপাশি কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে আসছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ফলে পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতা হারিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীরা লোকজনকে ধাওয়া করছেন। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় পিটিআইয়ের এক নেতা বলেছেন, প্রদেশের একটি সমাবেশে পুলিশ সদস্যরা ‘সরাসরি জনতার ওপর গুলি চালিয়েছেন’। তবে পুলিশের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্য ভিডিওগুলোতে পুলিশ সদস্যদের লাঠি দিয়ে লোকজনকে বেধড়ক মারধর করতে দেখা যায়। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।
পিটিআইয়ের আইনপ্রণেতা ইকবাল আফ্রিদি দাবি করেছেন, সহিংসতায় দলটির ১১ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন। তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ পর্যন্ত নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যবস্থার বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত দাঙ্গার পর এসব মামলা করা হয়। তবে ইমরান খান ও তার আইনজীবীরা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, জনপ্রিয়তা কমিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে এসব মামলা করা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পক্ষে বুধবার জাতীয় পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হওয়ার পর সিনেটও একই পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছে।
রবিবার প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে প্রাদেশিক সরকারের ‘ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব থেকে সরে থাকা’কে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্র।
সংসদবিষয়কমন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী জাতীয় পরিষদ ও সিনেটে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়ে প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জরুরি অবস্থা নিয়ে আলোচনার কারণে জাতীয় পরিষদের প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত করা হয়। পরে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার আলোচনা শুরু করলে নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
