বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির জেলা শাখা। এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বগুড়া জেলা এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের পাশে অবস্থিত এনসিপির জেলা কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আদর্শের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক বিষয়। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
তারা আরও বলেন, রাজনীতির মূল শক্তি হলো সহনশীলতা, যুক্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা দমিয়ে রাখা যায় না।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান নেতারা। একই সঙ্গে বগুড়াসহ সারা দেশে সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে। তাদের ভাষায়, “সহিংসতা নয়, সহাবস্থান চাই। প্রতিহিংসা নয়, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক (দপ্তর) মাইনুল ইসলাম, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুস সবুর সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক এফ এম মাহমুদুল হক রাকিব ও সদস্য আল মুক্তাদির আহমেদ দ্বীপ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব সৈকত আলী ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি মন্ডল, এনসিপির শ্রমিক নেতা মজনু মিয়া এবং বগুড়া জেলা যুবশক্তির মহিদ উল নবী মিসু, তৌফিকুর রহমান স্বপ্ন ও আরিফুজ্জামান শামীম।
