আজকের পত্রিকা ডেস্ক
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বশেষ চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
গতকাল রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ)।
কর্তৃপক্ষ জানায়, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ)।
ইয়েমেনে সক্রিয় ‘কোটালিশন টু রিস্টোর লেজিটিমেসি ইন ইয়েমেন’ (সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট) জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির চার নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু আঘাত হানার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
গত পাঁচ দিনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি চতুর্থ হামলার ঘটনা। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।
এর আগে গত শনিবারের হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন, যা সাম্প্রতিক সময়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল।
সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আখবারিয়া ও আল-আরাবিয়ার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে যাত্রীরা পবিত্র স্থান ভ্রমণের জন্য গেটে অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় একটি তীব্র আলোর ঝলকানি দেখা দেয় এবং ছাদের অংশ বিশেষ ভেঙে পড়লে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় কেবল রিয়াদই নয়, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনার কাজ চলছে।
হুতি বিদ্রোহীরা রিয়াদ এবং দাম্মাম—উভয় হামলার পেছনে তাদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। একের পর এক এসব হামলা দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল এবং যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

