ফুটবল দুনিয়ায় সাড়া ফেলে দেওয়া ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন নিকো পাজ। মাঠের দারুণ নৈপুণ্যের বাইরে সম্প্রতি একটি বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ২২ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
ফুটবল জাদুকর ও বিশ্বকাপজয়ী স্বদেশি কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ছোট ছেলে চিরো মেসিকে কোমোর জার্সি পরা একটি ছবিতে দেখেছেন পাজ। এরপর আনন্দ চেপে রাখতে পারেননি তিনি। মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছবিটি পোস্ট করেছেন। সেখানে মেসির কোলে তার ছেলে চিরোকে হাসিমুখে বসে থাকতে দেখা যায়।
কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পাজ বলেন, ‘ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের ছেলে আমাদের ক্লাবের জার্সি পরেছে। এটা আমাদের জন্য সম্মানের। এতেই বোঝা যায় যে, আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি।’
গত সপ্তাহে ঘরের মাঠে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় কোমো। অবিস্মরনীয় ওই জয়ে জোড়া গোলের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট করে একাই সব আলো কেড়ে নেন পাজ। প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেওয়া কোমোর এই ঐতিহাসিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই তরুণ তারকা।
ইউনাইটেডকে হারানোর পর উচ্ছ্বসিত পাজ বলেছিলেন, ‘এটি আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বিশেষ রাতগুলোর একটি। কেবল আমার জন্য নয়, বরং এই ক্লাবের প্রতিটি সমর্থক ও ক্লাবের সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই এটি একটি ঐতিহাসিক রাত।’
তিনি যোগ করেছিলেন, ‘আমরা ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি ক্লাবের বিপক্ষে খেলেছি। নিজেদের ঘরের মাঠে এমন একটি পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারা সত্যিই অবিশ্বাস্য। পুরো দলের এই পারফরম্যান্সে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমি থেকেই মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেস্ক ফ্যাব্রেগাস, যিনি বর্তমানে কোমোর কোচের দায়িত্বে রয়েছেন। মেসি খেলা চালিয়ে গেলেও ২০২৩ সালে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানান ফ্যাব্রেগাস। সাবেক এই দুই সতীর্থের দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব এখনও অটুট রয়েছে।
ইউরোপের সেরা ক্লাব আসরের মঞ্চে কোমোর দুর্দান্ত শুরু ক্লাবটিকে ঘিরে উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট পেয়েছে তারা। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে পৌঁছানোর দৌড়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সতীর্থদের এই রোমাঞ্চকর অভিযান উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে পাজ আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। কত দূর যেতে পারব, তা নিয়ে ভাবলে চলবে না। প্রতিটি ম্যাচ এমনভাবে খেলতে হবে, যেন এটিই আমাদের শেষ ম্যাচ।’
