উত্তরাখণ্ডে অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বড় খবর। গায়ক ডালের মেহেন্দিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার মুখ খুললেন তাঁর ভাই মিকা সিং। মিকার দাবি, উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ক্ষমা চেয়েছেন ডালেরের কাছে। পাশাপাশি, বিতর্কের জেরে ডালের যে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, সেই কথাও জানিয়েছেন মিকা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পীদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের তেহরিতে নবরাত্রি উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন ডালের মেহেন্দি। সেখানেই মঞ্চে তাঁকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী সুবোধ উনিয়াল তাঁর পরিবেশনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ ওঠে, ডালের নাকি মদ্যপ অবস্থায় মঞ্চে উঠেছিলেন। সেই ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। ডালেরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন তাঁর ভাই মিকা সিং-সহ একাধিক শিল্পী।
মিকার বক্তব্য, ডালের মেহেন্দি মদ্যপান করেন না। তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করেন মিকা। তাঁর দাবি, একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকে প্রকাশ্যে এভাবে অপমান করা কোনওভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান তিনি।
ফোন করে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
২৩ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় মিকা জানান, মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ডালেরকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে দু’জনের কথা হয়। মিকার দাবি, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ভদ্রভাবে কথা বলেছেন এবং ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন। উত্তরাখণ্ডের মানুষ ও সরকার শিল্পীদের সম্মান করেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মিকার কথায়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে উত্তরাখণ্ডে শিল্পীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়। যা ঘটেছে, তা হওয়া উচিত ছিল না বলেও জানিয়েছেন ধামি। এই ঘটনায় রাজ্যের তরফে দুঃখপ্রকাশের কথাও মিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তবে মিকার দাবি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সুবোধ উনিয়ালের কাছ থেকে ডালেরের উদ্দেশে ক্ষমাপ্রার্থনার প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর মতে, ভুল বোঝাবুঝি হলে তা স্বীকার করে নেওয়া এবং ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়েই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
এই বিতর্কের পর দাদার মানসিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন মিকা। মিকার দাবি, পরদিন ফোনে কথা বলার সময় ডালের কেঁদে ফেলেছিলেন। দাদাকে এমন অবস্থায় দেখে তিনি নিজেও হতবাক হয়ে যান। মিকা আরও জানান, ডালের সাধারণত কারও সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলতে স্বচ্ছন্দ নন।
