নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় এক তরুণীকে (১৯) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর ঈদগাও মাঠে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় আজ রোববার দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার তরুণেরা হলেন উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়া (২২), হারুন মিয়া (২৭) ও রুবেল মিয়া (২৬)। তাঁদের মধ্যে বিলাল মিয়া পেশায় ছোট লরির চালক, হারুন মিয়া লরির মালিক ও রুবেল মিয়া চালকের সহযোগী।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর সঙ্গে বিল্লাল মিয়ার এক বছর ধরে প্রেম ছিল। গতকাল সকালে বিল্লাল ওই তরুণীকে ফোন করে বিয়ের কথা বলে ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে আসতে বলেন। তরুণী পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ বাজারে যান। পরে বিল্লাল তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কেন্দুয়ায় নিয়ে আসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, কেন্দুয়ায় পৌঁছে বিল্লাল তরুণীকে তাঁর বড় ভাইয়ের একটি খালি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে দিনভর থাকার পর রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বের হন। পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা কাশিপুর গ্রামের ঈদগাও মাঠে পৌঁছান। সেখানে বিল্লাল ও হারুন মিয়া মিলে তরুণীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে লেখা হয়েছে। এ সময় তাঁদের সহকারী রুবেল মিয়া পাহারা দেন ও ধর্ষণের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন।
ঘটনার পর তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে কেন্দুয়া থানার ডিউটি কর্মকর্তার নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বিল্লাল তাঁর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে সিম কার্ডটি ভেঙে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিষয়টি কাউকে জানালে কিংবা মামলা করলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে। এ ঘটনায় আজ দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।