কাজী খোরশেদ আলম
নবগঠিত বুড়িচং পৌরসভাকে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, মাদক ও বেকারত্বমুক্ত আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক সেবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পৌরবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।
অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান ১৯৭৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জগতপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আবদুর রহমান ছিলেন একজন কৃষক এবং মাতা মরহুমা করফুলের নেছা ছিলেন গৃহিণী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ।
অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমানের শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি উত্তর জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি গ্রামের জগতপুর এডিএইচ সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮৭ সালে দাখিল, ১৯৮৯ সালে আলিম এবং ১৯৯১ সালে ফাজিল পাস করেন। পরবর্তী সময়ে ধামতী ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৩ সালে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স এবং ১৯৯৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অধ্যাপক অহিদুর রহমান সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ১৯৮৩ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের শেষ দিকে তিনি বুড়িচং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মনোনীত হন। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে ঝিনাইদহ শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০০৩ সালে সংগঠনের রুকন হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক জীবনে প্রথমে বুড়িচং সদর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সভাপতি, পরে সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে বুড়িচং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে বুড়িচং উপজেলা জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা উত্তর জেলার মজলিসে শূরার সদস্য হন।
অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান ১৯৯৯ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বড় ধুশিয়া আদর্শ কলেজে ইসলামিক স্টাডিজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
২০০১ সালের ১ জানুয়ারি তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কালন্দুর গ্রামের মরহুম মাস্টার তমিজ উদ্দিনের দ্বিতীয় কন্যা শিরিন আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। তাঁর মেয়ে নুসরাত জাহান অর্পা কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। ছেলে হামিদ শাহরিয়া শাহী নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
শিক্ষকতা ও রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক অহিদুর রহমান। তিনি জগতপুর সৌদিয়ান মসজিদের খতিব, জগতপুর অ্যাডভান্স সোসাইটির উপদেষ্টা, বুড়িচং ইসলামী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি এবং বুড়িচং আইডিয়াল ফ্রেন্ডস অ্যাসোসিয়েশনের (ইফা) সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বুড়িচং ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজি ও বুড়িচং তানজিমুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উন্নয়ন সংস্থা এবং রেইনবো অ্যাসোসিয়েশন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
নবগঠিত বুড়িচং পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনকল্যাণমুখী পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক মো. অহিদুর রহমান। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য হলো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করা।
শিক্ষকতা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি বুড়িচং পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে চান।
