বন্ধুরা মিলে বেরিয়েছিল ঠাকুর দেখতে। তাদের মধ্যে ২ কিশোরীর নিথর দেহ ফিরল বাড়িতে। তারা দুজনে খুব ভালো বন্ধ বলে জানা গিয়েছে। শনিবার উত্তর কলকাতার চোরবাগান (Chorbagan Stampede) সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় তাদের। রবিবার দুপুরে তাঁদের মৃতদেহ এসে পৌঁছাল নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে। মৃতদেহ বাড়িতে ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনহারা পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা। গোটা এলাকায় নেমে আসে নিস্তব্ধতা ও গভীর শোকের ছায়া। মরদেহ পৌঁছানোর পরই শোকস্তব্ধ পরিবেশে সৎকারের প্রস্তুতি শুরু হয়। একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠা দুই বান্ধবীর অকাল প্রয়াণে মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।
মৃতদের নাম বর্ণালী হালদার (১৭) ও তানিয়া বিশ্বাস (১৮)। তারা গৌরাঙ্গনগর নতুন পল্লি এলাকার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার উৎসবের আমেজে মেতে পাড়ারই ৭ বান্ধবী একসঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল। কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘোরার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ে আচমকাই তীব্র হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হয় বর্ণালী ও তানিয়া। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রবিবার দেহ পৌঁছানো থেকে শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান রাজারহাট নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দুঃখপ্রকাশ করে বিধায়ক বলেন, “আজ যে মেয়েটিকে এমনভাবে নিয়ে যেতে হচ্ছে, সেই মেয়েটিই ক’দিন আগে লাফিয়ে লাফিয়ে আমাকে একটি গাছ উপহার দিতে চেয়েছিল। বলেছিল, ‘জেঠুকে আমি এই গাছটা দেব’। এমন মর্মান্তিক পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, এমন দিন যেন আর কাউকে দেখতে না হয়।”
বিধায়ক আরও বলেন, “একজন মায়ের কোল খালি হয়ে গেল। তাঁর চোখের জল আমরা কোনওদিনই মুছিয়ে দিতে পারব না। তবুও এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে আমরা সবসময় আছি এবং থাকব।”
