পঞ্চগড়ে ৩০১ মণ্ডপে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু
দেবীবোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে জেলার পাঁচটি উপজেলা ও তিনটি পৌরসভা এলাকায় ৩০১টি মণ্ডপে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গোৎসব।
শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি, কাশফুল আর ঢাকের বাদ্যে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পূজামণ্ডপগুলো। দেবী দুর্গার কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনা করছেন ভক্তরা।
শারদীয় দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সব মানুষের মঙ্গল কামনা করছেন পূজারিরা।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
পূজারিরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মণ্ডপের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্য, পুলিশ, গ্রামপুলিশ এবং ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার মণ্ডপগুলোতে বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করবেন। বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকেরাও উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তায় নিয়োজিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসব উদ্যাপনের প্রত্যাশা
পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা জানান, এবার পঞ্চগড়ে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁরা আশা করেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
পূজার বিভিন্ন আয়োজনে দেবীর আরাধনা, পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ, শিব ও বিষ্ণুপূজা, শ্রীশ্রী চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, আরতি, ভজন-কীর্তন, গীতাপাঠ ও প্রসাদ বিতরণ থাকবে। পাশাপাশি দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে প্রার্থনা করবেন ভক্তরা।
