Published on
:
2 min read
কুয়াশায় মোড়া পাহাড়, আঁকাবাঁকা নির্জন রাস্তা আর দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান। কার্শিয়াংয়ের ব্যস্ত শহর ছাড়িয়ে মাত্র ৩ কিলোমিটার এগোলেই দেখা মিলবে এমনই এক শান্ত পাহাড়ি ঠিকানার নাম সিঙ্গেল চা বাগান। পাহাড়ের গায়ে সাজানো বাক্সবাড়ি, পাইনের সারি আর পাশ দিয়ে ছুটে চলা টয়ট্রেনের ন্যারোগেজ লাইন— সব মিলিয়ে সিঙ্গেল যেন ছবির মতো সুন্দর।
কার্শিয়াংকে বলে সাদা অর্কিডের দেশ। এখানের প্রতিটা বাড়ির বারান্দায় ঝুলে থাকা অর্কিড। তবে সিঙ্গলের সৌন্দর্যটা কিছুটা অন্য রকম। প্রায় ৫,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই চা-বাগানে পৌঁছতে গেলে পেরোতে হয় নির্জন আঁকাবাঁকা পথ। দু’পাশে সবুজ চা-গাছের সারি, পাহাড়ের ঢালে সাজানো বাগান আর নীচে ছোট্ট গ্রামের জনপদ— প্রকৃতির এমন রূপই ধরা পড়ে সিঙ্গল যাওয়ার পথে। আর সিঙ্গল পৌঁছে যে দিকে তাকাবেন, শুধুই সবুজ।
পাহাড়ে ধীরে ধীরে শীত পড়তে শুরু করে দিয়েছে। কার্শিয়াংয়েও সেই আমেজ রয়েছে। তবে তুলনায় কম। যখন শীতল হাওয়া চোখ-মুখ ছুঁয়ে যায়, তখন আরও বেশি করে জাপটে ধরে চা বাগানে ভেসে বেড়ানো মেঘ। এমন নির্ভেজাল প্রকৃতির দেখা মেলে সিঙ্গলে। চা-বাগানের মাঝেই রয়েছে চা তৈরির কারখানা ও পুরোনো বাংলো। বাগানের কোলে হোমস্টেতে থাকলে সবুজের মাঝে দাঁড়িয়ে টয়ট্রেনের ছুটে চলা দেখার সুযোগও মিলবে এখানে।
সিঙ্গেল চা বাগান
শীতকালে সিঙ্গেল চা বাগানে গেলে বাড়তি পাওনা কমলালেবুর বাগান। গাছভরা কমলালেবু আর পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য সিঙ্গল বেড়ানোর আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। হাতে সময় নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন কাছেই বালাসন নদীর তীর থেকেও। গাড়িতে যেতে পারেন। আবার নিজের গতিতে পাহাড়ি রাস্তায় হেঁটেও পৌঁছতে পারেন। এ ছাড়া ডাউহিল, ফরেস্ট মিউজিয়াম ও ডিয়ার পার্কও ঘুরে দেখতে পারেন। কার্শিয়াংয়ের অন্যান্য চা-বাগান, যেমন মকাইবাড়ি, অ্যাম্বোটিয়া ও সেলিম হিলও ঘুরে নেওয়া যায়।
কী ভাবে যাবেন এবং কোথায় থাকবেন?
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রোহিণী হয়ে কার্শিয়াংয়ের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। কার্শিয়াং থেকে আরও ৩ কিলোমিটার এগোলেই সিঙ্গেল চা বাগান। এনজেপি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে নিতে পারেন।
সিঙ্গেল চা বাগানে একাধিক হোমস্টে রয়েছে। সাধারণত সেখানে দু’জনের থাকা-খাওয়া মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ২,৫০০ টাকা। পিক সিজ়নে আগে থেকে বুক করে যাওয়াই ভালো।
FAQ
১. সিঙ্গেল চা বাগান কোথায় অবস্থিত?
পশ্চিমবঙ্গের কার্শিয়াং থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে সিঙ্গেল চা বাগান অবস্থিত।
২. সিঙ্গেল চা বাগানে কী ভাবে যাবেন?
নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রোহিণী হয়ে গাড়িতে কার্শিয়াং পৌঁছে সেখান থেকে সিঙ্গেল চা বাগানে যেতে পারেন।
৩. সিঙ্গেল চা বাগানে কোথায় থাকবেন?
এখানে একাধিক হোমস্টে রয়েছে। বাগানের কাছাকাছি হোমস্টেতে থেকে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারেন।
৪. সিঙ্গেল চা বাগানে থাকার খরচ কত?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোমস্টেতে দু’জনের থাকা-খাওয়া মিলিয়ে খরচ প্রায় ২,৫০০ টাকা।
৫. সিঙ্গেল চা বাগানের আশপাশে কোথায় ঘুরবেন?
বালাসন নদীর তীর, ডাউহিল, ফরেস্ট মিউজিয়াম, ডিয়ার পার্ক এবং মকাইবাড়ি, অ্যাম্বোটিয়া ও সেলিম হিল চা বাগান ঘুরে দেখতে পারেন।
