Published on
:
2 min read
ভারতীয় সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। সম্প্রতি তাঁর ফুসফুসের ক্যান্সার সংক্রান্ত পুরোনো একটি খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে শর্মিলা-কন্যা সাবা এবং সোহা দু’জনেই জানিয়েছেন, বর্ষীয়ান অভিনেত্রী কোনওদিনই ধূমপান করেননি। তা সত্ত্বেও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকে সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দিচ্ছে এই সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন। সাধারণত লাং ক্যান্সারের কথা উঠলে বেশির ভাগ মানুষই ধরে নেন রোগী ধূমপান করেন। কিন্তু শর্মিলার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এখন প্রশ্ন হলো, জীবনে একটাও সিগারেট না খেয়ে কি কারও ফুসফুসে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে? চিকিৎসকরা বলছেন, হ্যাঁ, পারে! ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান কারণ, সে কথা ১০০ শতাংশ সত্যি। কিন্তু এটিই একমাত্র কারণ নয়।
নন-স্মোকারদের ক্ষেত্রে লাং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার কারণগুলো কী কী?
বায়ুদূষণ ও অন্যান্য পরিবেশগত ঝুঁকি
বাতাসে উপস্থিত অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫ সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা (IARC)-র পক্ষ থেকে বায়ুদূষণ এবং পার্টিকুলেট ম্যাটারকে মানবদেহের জন্য কার্সিনোজেনিক (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘরের ভিতরে অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, উনুন বা কয়লার ধোঁয়া, প্যাসিভ স্মোকিং, রেডন গ্যাস, অ্যাসবেস্টস এবং পরিবারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব ইতিহাসও এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
অধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যানসার কেন আলাদা?
ধূমপান করেন না এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সারের ধরন কিছুটা আলাদা হতে পারে। অধূমপায়ীদের মধ্যে নন-স্মল-সেল লাং ক্যান্সারের একটি রূপ অ্যাডেনোকার্সিনোমা তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়। এই ধরনের টিউমারে অনেক সময় বিশেষ কিছু আণবিক পরিবর্তন বা মিউটেশন (যেমন EGFR mutations) থাকে, যা চিকিৎসকদের সঠিক ও টার্গেটেড থেরাপি বেছে নিতে সাহায্য করে। ফলে রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনা কেবল ধূমপানের ইতিহাসের উপর নির্ভর করে না, বরং টিউমারের প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।
উপসর্গ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলারা অনেক সময় ফুসফুসের প্রাথমিক লক্ষণগুলিকে দূষণজনিত অ্যালার্জি বা সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই লক্ষণগুলি অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়।
একটানা বা দীর্ঘমেয়াদী কাশি।
কোনও কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস পাওয়া।
শ্বাসকষ্ট বা বুকে অস্বস্তি বেড়ে যাওয়া।
কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠা।